রাঙামাটির বিলাইছড়িতে স্বামীর জন্য ওষুধ আনতে গিয়ে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে পড়ে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একটি নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে তিনি হ্রদের পানিতে তলিয়ে যান।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কেরনছড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে জাল ফেলে তিন ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে ওই গৃহবধূ লতা মারমার (৩২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শামুকছড়ি এলাকার বাসিন্দা মিলন কান্তি চাকমার স্ত্রী।
জানা যায়, লতা মারমা তাঁর অসুস্থ স্বামীর জন্য হার্টের ওষুধ আনতে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তাঁর ভাসুরের সঙ্গে থাকা সাত বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বিলাইছড়ি বাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে কেরনছড়ি ওয়ার্ড মেম্বার দয়ারঞ্জনের ঘাটের কাছে হঠাৎ মাথা ঘুরে নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যান তিনি। শিশুটি অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পেলেও লতা মারমা হ্রদের পানিতে তলিয়ে যান।
শিশুটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় স্থানীয়রা জাল ফেলে তল্লাশি শুরু করেন। পরে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে আনার পর বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নূর উদ্দিন তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
লতা মারমা তাঁর স্বামী এবং তিন সন্তান রেখে গেছেন। বড় মেয়েটির বয়স ১৫ বছর, মেজ ছেলের বয়স ১১ বছর এবং ছোট মেয়েটির বয়স ২ বছর ৬ মাস।
লতা মারমার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে স্বামী ও শ্বশুরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর পুরো পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
খবর পেয়ে সমবেদনা জানাতে ছুটে আসেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রামাচরণ মারমা (রাসেল), উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুজন বড়ুয়া, পিআইও অফিসের সুমন গাজী, মহিলা মেম্বার ও ওয়ার্ড মেম্বারবৃন্দ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়।
বিলাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর