নিখোঁজের দুইদিন পর মাদ্রাসাছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

​ফরিদপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০১:১২ পিএম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নিখোঁজের দুই দিন পর মো. আমির হামজা ওরফে হানজালা (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​বুধবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এরআগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চর চান্দড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে আমির হামজার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। রোববার (১৯ অক্টোবর) আছরের নামাজের পর থেকে ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ ছিল।

​নিহত আমির হামজা আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের শুকুরহাটা গ্রামের সায়েমউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। সে একই উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চান্দড়া তা’লিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার জামাতখানা বিভাগের দ্বিতীয় জামাতের ছাত্র ছিল।

​প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে চর চান্দড়া গ্রামের মতিয়ার শেখের স্ত্রী বাড়ির পাশের পুকুরে হাঁস আনতে গিয়ে পানিতে ভাসমান একটি বস্তা দেখতে পান। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং তারা আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দেন। ​খবর পেয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাটি খুললে এক কিশোরের মরদেহ বেরিয়ে আসে। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল এবং মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। লাশ ডুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে বস্তার মধ্যে কিছু ইটও পাওয়া যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমির হামজার পিতা ছেলের লাশ শনাক্ত করেন।

​পারিবারিক ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে আমির হামজা মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সোমবার সন্ধ্যায় আমির হামজার পিতা আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গত দুই দিন ধরে পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এলাকায় মাইকিংও করেছিল।

​নিহত আমির হামজার পিতা সায়েমউদ্দিন বিশ্বাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মাসুম বাচ্চাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো! আমার একটাই ছেলে হানজালা। আমি আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।

​চান্দড়া নূরানী তালিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম মাওলানা মো. আমিনউল্লাহ বলেন, ছেলেটি অনেক ভদ্র ছিল। আমরা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই, দ্রুত তদন্ত করে এই ঘটনার উন্মোচন করা হোক।

​আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজালাল আলম জানান,'খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করে রাতেই থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনা উদঘাটন করতে পুলিশ তদন্তকাজ শুরু করেছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।

জেএইচআর