ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ফয়জুর রহমান (রহ.) বড় মসজিদ মাদরাসায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও সংলাপ এড়িয়ে যাওয়ার কারণে অপ্রত্যাশিত বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এতে নগরজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসার শিক্ষার্থী আজিজুল হক মুয়াজ বলেন, “আজ যদি জেলা প্রশাসক ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলতেন, তাহলে এই বিশৃঙ্খলা হতো না। জেলা প্রশাসক একজন শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন, যা উত্তেজনার মূল কারণ।”
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উপস্থাপন করেন—
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ দ্বীনি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তারা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি উমর ফারুক, মুফতি সারোয়ার হোসাইন ও মুফতি আব্দুল আউয়াল। শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত দাবি পেশ করেন মিশকাত বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল হক মুয়াজ।
অন্যদিকে, সোমবার রাত ১১টার দিকে মাদরাসার শিক্ষক পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে জেলা প্রশাসকের জারি করা “প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার নির্দেশ” স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় নিয়মিত ক্লাস ও পাঠদান চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর মাদরাসা প্রাঙ্গণ ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
উল্লেখ্য, জামিয়া ফয়জুর রহমান (রহ.) ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও খ্যাতনামা কওমি মাদরাসা। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এখানে হিফজ, কিরাত, ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রে শিক্ষা গ্রহণ করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।
জেএইচআর