পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া প্রাচীন টিএন্ডটি ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে ছাদ ও দেয়ালের ফলেস্টারা। ভবনটির পরিবেশ এখন পচা ময়লা ও আবর্জনায় ভরপুর এবং নর্দমার স্থানে পরিণত হয়েছে। কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও নজরদারির অভাবে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
পুরো অফিস এলাকা লতাপাতা কচু গাছে ঘিরে আছে। নেই কোনো সংস্কার। অফিস এলাকায় দুর্গন্ধ ও ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। স্থানীয়রা জানান, কেউ কখনওই এখানে সেবা গ্রহণ করতে আসে না।
এক সময় প্রবাসী পরিবার ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই অফিসটি আজ ভুতুড়ে ভবনে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মোবাইল চালু হওয়ার আগে এটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ টিএন্ডটি অফিস। বর্তমানে রাস্তার পাশে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে। সেখানে লেখা আছে “ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর”, কিন্তু ডিজিটাল সুবিধার কোন ছোঁয়া নেই বরং সব কিছু মলিন ও অরক্ষিত অবস্থায়।
বিটিসিএল পিরোজপুর জেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে ভবনটি টিএন্ডটি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। ২০০২ সালে এটি ডিজিটাল হয়েছে। বর্তমানে এখানে টেলিফোন ও এল এল আই সেবা রয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, সরকারি হাসপাতাল, নির্বাচন কমিশন অফিসসহ ৩০টি টিএন্ডটির লাইন কার্যকর রয়েছে। তবে লোকসংকট ও কর্মী কম থাকার কারণে সেবা প্রদান প্রভাবিত হচ্ছে।
বিটিসিএল পিরোজপুর জেলার জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “অবর্জনার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে পৌরসভার সহযোগিতা নিয়ে পরিষ্কার করি। মেইন সড়কে কালভার্ট করার জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি হলে আমাদের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমস্যা চিহ্নিত করে অতি দ্রুত অফিসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চলবে।”
সেবা গ্রাহকরা জানান, ২০০১ সালের দিকে টিএন্ডটির ল্যান্ডফোন লাইন ব্যবহার করতেন। ২০০২ সালের ডিজিটাল হওয়ার পরও সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সেবা না পাওয়ায় অনেকেই লাইন কেটে দিয়েছেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম বলেন, “অফিসটি সচল ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য আমার কাছে সহযোগিতা চাইলে আমি অবশ্যই করবো। বিষয়টি আমার জানা ছিল না, তবে খবর পেয়ে আমি ভিজিট করে পরিস্থিতি দেখব।”
ইএইচ