বাংলাদেশ জাতীয় নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলের নারী ফুটবলার তৃষ্ণা রানীকে বসতবাড়ীর জমি ও পাকাঘর উপহার দিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবেদ আলী।
তিনি বুধবার সন্ধ্যায় ময়দানদিঘী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে সাড়ে চার শতক জমি ও নির্মাণকৃত আধা পাকা ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।
এ সময় তিনি তৃষ্ণা রানীসহ তার বাবা ও মায়ের হাতে জমির দলিল তুলে দিয়ে ঘরের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং তার বাবার জন্য দেওয়া একটি দোকানঘরের উদ্বোধনও করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুমন চন্দ্র দাস, বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম, তৃষ্ণা রানীর কোচ মোফাজ্জল হোসেন বিপুল, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মী প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক সাবেদ আলী জানান, বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়ার তৃষ্ণা রানী দেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিভিন্ন দেশের সাথে খেলায় সুনাম বয়ে নিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের পরিবারের নিজস্ব কোন থাকার জায়গা ও উপযুক্ত থাকার ঘর ছিল না। চাচার বাড়ীতে একটি ঘরে কষ্ট করে থাকতো। তার বাবা অসুস্থ্য, মা ইট ভাটায় কাজ করেন। দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেও দেশকে সম্মানের জায়গায় নিয়ে গেছে, সেই স্বীকৃতি স্বরূপ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে চার শতক জমি রেজিস্ট্রি করে ও বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে তার অসুস্থ্য বাবাকে পরিবারের খরচ চালানোর জন্য একটি দোকানঘরও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি প্রত্যাশা করবো সবাই এই পরিবারের পাশে থাকবেন, জেলা প্রশাসন ও সরকার তার পাশে থাকবে। তৃষ্ণা রানী দেশকে আরও ভালো কিছু উপহার দেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, নারী ফুটবল দলের গর্বিত সদস্য বোদা উপজেলার রত্ন তৃষ্ণা রানীকে জেলা ও উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি করার জন্য ময়দানদিঘীতে সাড়ে চার শতক জমি রেজিস্ট্রি প্রদান করা হয়েছে এবং আধা পাকা বাড়ি জেলা প্রশাসক ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি গুণিদের কদর করলে দেশে আরও গুণি জন্মাবে।”
টু স্টার বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমির পরিচালক ও তৃষ্ণা রানীর কোচ মোফাজ্জল হোসেন বিপুল জানান, “তৃষ্ণা রানী ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে বোদা ফুটবল একাডেমিতে কোচিং করে জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তৃষ্ণা রানী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এখন জাতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দলের গোলমেশিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক তাকে বসতবাড়ীর জন্য জমি ও ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে, তাই আমরা অনেক খুশি। তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
তৃষ্ণা রানী অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, “বহু প্রতিবন্ধকতা পারি দিয়ে এখানে এসেছি। আজকে নিজেকে অনেকটাই সফল মনে হচ্ছে। যারা একসময় কটুকথা বলতো, তারাও আজকে উৎসাহ দিচ্ছে। জেলা প্রশাসক আমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা আমার বড় পাওয়া। আমি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানাই।”
ইএইচ