অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি: প্রতিবাদ করে বিপাকে উপ-সহকারী কর্মকর্তা

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২৫, ০৩:১৩ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সরকার নিযুক্ত বিসিআইসি ডিলারদের বিরুদ্ধে সার বিক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি ভাবে ডিএপি সারের নির্ধারিত মূল্য কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ২১ টাকা, যার ৫০ কেজির প্রতি বস্তার দাম ১,০৫০ টাকা। কিন্তু বিসিআইসি ডিলাররা খুচরা সার বিক্রেতাদের প্রতি বস্তা ১,৩৫০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে অধিক মুনাফা করছেন।

এছাড়া ডিএপি সার খুচরা বিক্রেতা ও সাব-ডিলারদের মাঝে সমবণ্টন করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা সঠিকভাবে করা হচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, বিসিআইসি ডিলাররা বরাদ্দকৃত সার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে শুধুমাত্র পছন্দের কিছু খুচরা সার বিক্রেতাদের কাছে এবং যাদের সাব-ডিলারের কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই তাদের কাছেও অধিক মুনাফায় বিক্রি করছেন।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, “আমি এ বিষয়গুলোর প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে দশ হাজার টাকা উৎকোচ দাবির মিথ্যা অভিযোগ দেয় ডিলাররা। কর্তৃপক্ষ অভিযোগের কোনো তদন্ত ছাড়াই আমাকে এখান থেকে বদলি করে দেয়।”

তবে কৃষকরা জানান, দেবগ্রাম ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল শেখের বিরুদ্ধে এ ধরনের একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কৃষি বিভাগ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার বিসিআইসি ডিলাররা হলেন, খন্দকার ফারুক হোসেন, নুরুজ্জামান মিয়া, মো. হোসনে জামান, বাবু রনজিৎ কুমার সরকার, হোসেন আলী বেপারী, পলাশ কুমার সাহা ও মো. নুরুল হক মোল্লা।

তাদের গুদাম বা দোকানঘর দায়িত্বপ্রাপ্ত নিজ নিজ ইউনিয়নে থাকার কথা হলেও প্রত্যেক ডিলারের গুদাম ও দোকান গোয়ালন্দ বাজারে অবস্থিত। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এতে ভোগান্তি ও বাড়তি ব্যয় হচ্ছে সাধারণ কৃষক ও ইউনিয়ন পর্যায়ের খুচরা সার বিক্রেতাদের।

স্থানীয় কৃষক মুসা শেখ, মুসলেম সওদাগর, আক্কাস শেখসহ কয়েকজন জানান, “আমরা শুধু শুনি ডিএপি সারের বস্তা প্রতি সরকারি মূল্য ১০৫০ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজার থেকে আমাদের কিনতে হয় ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা দিয়ে।”

আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার কয়েকজন সাব-ডিলার অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন। 

তারা বলেন, “বিসিআইসি ডিলারদের কাছ থেকে ডিএপি সার আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। তবে আমাদের কোনো ক্রয় রশিদ দেন না। রশিদ চাইলে পরবর্তীতে সার দেবেন না বলে হুমকি দেন। তাই আমরা ঝামেলা না করে ক্রয়মূল্য থেকে বস্তাপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা লাভ নিয়ে কৃষকদের কাছে বিক্রি করি।”

অভিযোগের বিষয়ে বিসিআইসি ডিলাররা বলেন, অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয়। 

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “আমরা এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ইএইচ