হালকা কুয়াশা, শিশির ভেজা ঘাস আর মৃদু হিমেল হাওয়ায় চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে শীতের আগমনী আমেজ। হেমন্তের সোনালি আভা পেরিয়ে প্রকৃতি এখন শীতকে বরণ করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
তবে শীতের তীব্রতা শুরুর আগেই বরিশাল নগর ভবনের সামনে ফুটপাতে ভ্যানগাড়ীতে বসা পুরাতন কাপড় কিনতে দোকানে ভিড় বেড়েছে।
শীত নিবারণের জন্য আগে থেকেই নিম্নআয়ের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও এসব দোকান থেকে গরম কাপড় কিনছেন।
প্রতিদিন দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকে এই ফুটপাতের বেচা-কেনা। ক্রেতাদের চাহিদাও রয়েছে বেশ ভালো।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর বেচা-বিক্রি ভালো।
এদিকে, শীত মৌসুমে নিম্নআয়ের মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বরিশালের নবাগত জেলা প্রশাসন। দেখা গেছে, অগ্রহায়ণের শুরুতেই দিনের বেলা একটু গরম থাকলেও দুপুরের পর হালকা বাতাসের সঙ্গে শীতের আমেজ দেখা যায়। পৌষ-মাঘ এখনও বাকি। এর মধ্যেই বরিশাল নগরীতে ফুটপাতের পুরাতন মার্কেটের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে।
প্রতিদিনই এই ফুটপাতের দোকানগুলোতে লাখ টাকার শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবছর দাম তুলনামূলক একটু বেশি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের আগ্রহ কম দেখা যায়। তাই তারা প্রতিটি দোকান ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং দামাদামি করে পুরানো শীতবস্ত্র কিনেন।
নগর ভবন সংলগ্ন জেলা পরিষদের পুকুর পাড় ঘিরে ভ্যানগাড়ীতে বসা পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে মিলছে পুরনো ব্লেজার, জ্যাকেট, সোয়েটার, ট্রাউজার, ওভারকোট, শিশু ও বৃদ্ধদের পোষাকসহ নারীদের শীতের পোশাকও।
অন্যদিকে, নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটেও সাজানো শীতের পোষাকের দোকানগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। সেখানেও বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুদের পোষাক বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর দাম বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
সেলিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূ বলেন, “এবার শীত মৌসুমের শুরুতেই ঠান্ডার প্রকোপ একটু দেখা যাচ্ছে। এখানকার শীতের কাপড়গুলোর মান ভালো, কিন্তু দামও তুলনামূলক বেশি। সন্তানদের জন্য শীতের পোশাক কিনলাম এখান থেকে।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর শীত একটু দেরিতে নেমেছে। তবে শুধুমাত্র একটু একটু করে শীত পড়ছে। পাইকারিতে দাম বেড়েছে—এমন অজুহাতও দিচ্ছেন তারা। শীতের মৌসুমকে ঘিরে নগরীতে এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে গরম কাপড়ের বাজার। নতুন পোশাকের দোকানের চেয়ে পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতেই ক্রেতার ভিড় বেশি দেখা যাচ্ছে।
বরিশাল নগর ভবন এলাকার ঘুরে দেখা যায়—সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর, মাফলার, টুপি ও হাতমোজার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
অবসরপ্রাপ্ত এক আবহাওয়াবিদ জানান, বছরের শেষ দিকে বরিশাল শহরসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে অল্প স্বল্প শীত পড়তে শুরু করেছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবছর শীত একটু বেশি পড়বে বলে তিনি ধারণা করছেন। তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই শীতের আমেজ রয়েছে, তাই নগরীজুড়ে গরম কাপড়ের বাজারগুলোতে বেচা-কেনা জমে উঠেছে।
রোববার নগর ভবনের সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর অভিজাত মার্কেটগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতেও সমানতালে চলছে গরম কাপড়ের বিকিকিনি। সস্তা দামে গরম কাপড় কিনতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন। নগর ভবন সংলগ্ন জেলা পরিষদের পুকুরের পাশ জুড়ে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা শীতের বস্ত্র কেনার জন্য ভিড় করছেন।
এছাড়াও নগরীর সদর রোড, লঞ্চঘাট, নতুন বাজার, রূপাতলী, মরকখোলার পুল, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, সাগরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের ওপর ও ভ্যানগাড়িতে করে বাহারি রঙের শীতবস্ত্র বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের সিংহ ভাগই মৌসুমী পোশাক বিক্রেতা।
শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই এসব দোকানে ভিড় করছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহমেদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে চলতি বছর শীত মৌসুমে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি থাকবে। নভেম্বর মাসের শেষের দিকে এ শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
এ প্রসঙ্গে আলাপকালে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় না থাকায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে ফুটপাতের এসব শীতবস্ত্রের দোকানে গরম কাপড় কিনতে ভিড় করছেন। এটি নতুন নয়, বহু বছর ধরে শীত এলে এই চিত্র দেখা যায়।”
ইএইচ