মাগুরায় চতুর্মুখী লড়াই: নিষিদ্ধ আ.লীগের ভোট কোথায়?

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ১২:২১ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাগুরা–১ ও মাগুরা–২ আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে নেই-কিন্তু গত পাঁচ দশকের ভোট–রাজনীতিতে দলটির আধিপত্য থাকায় তাদের বিপুল ভোটব্যাংক এখন ‘ফ্রি–ফ্লোটিং’। ফলে দুই আসনেই তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব অনিশ্চয়তা এবং চতুর্মুখী লড়াই।আসন দুটিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখন মাঠে সক্রিয়।

বিএনপিতে মনোনয়ন বিভাজন: মাগুরার সমীকরণে বড় ভেরিয়েবল। মাগুরার দুই আসনেই বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল শেষ পর্যন্ত মাগুরা–১ এ মনোয়ার হোসেন খান, মাগুরা–২ এ অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়। এতে বঞ্চিত প্রার্থীদের একটি অংশ নীরবে ক্ষুব্ধ, যা স্থানীয় পর্যায়ে গ্রুপিং পলিটিক্সকে আরও তীব্র করেছে।

পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ১৯৭১–২০২৪ সাল পর্যন্ত দুই আসনেই আওয়ামী লীগই সর্বাধিকবার বিজয়ী হয়েছে। মাগুরার গ্রাম–মফস্বলে দলটির প্রভাব এখনও প্রবল। কিন্তু এবার দল নির্বাচনে না আসায়, একটি অংশ মামলা–হামলার কারণে কেন্দ্রে যেতে পারবেন না, তাছাড়া ও বিদেশে অবস্থান করায় অনেকে ভোট দিতে পারবেন না, যারা কেন্দ্রে যাবেন, তাদের ভোটই হবে ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’।

জামায়াতের সুবিধা: একক সংগঠন,গ্রুপিং নেই। জামায়াতের দুই আসনেই কোনো অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং নেই। মাগুরা–১: আলহাজ্ব আব্দুল মতিন,মাগুরা–২: এম বি বাকের। দুই প্রার্থীই দীর্ঘদিন মাঠে সংগঠন সচল রেখেছেন। ফলে প্রাথমিক ভোট তাঁদের ঝুলিতে প্রায় নিশ্চিত। বিএনপির ভেতরকার বিভাজন থাকলে তারা সরাসরি লাভবান হতে পারে।

মাগুরা–১: মনোয়ার বনাম মতিন সমান তালে লড়াই।মনোয়ার হোসেন খান (বিএনপি) তৃণমূল সংগঠনে সক্রিয়তা বাড়িয়েছেন।বঞ্চিত গ্রুপের সমর্থন পুরোপুরি না মিললেও তিনি ফেভারিটদের তালিকায়।

আলহাজ্ব আব্দুল মতিন (জামায়াত) ইউনিয়ন–ভিত্তিক কমিটি শক্ত প্রচারণায় ধারাবাহিকতায় রয়েছে।

জাপা–ইসলামী আন্দোলন নির্ণায়ক বা ‘কিংমেকার’ ভূমিকা রাখতে পারে।অতীত ভোটের হিসাবে এ আসনে আওয়ামী লীগ বারবার বিজয়ী হলেও এবার প্রথমবার চারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

মাগুরা–২: বিএনপির ঐতিহ্য জামায়াতের উত্থান। অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী (বিএনপি) এলাকা–ভিত্তিক দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা, বিএনপির পুরনো ভোট তাঁর মূল শক্তি।

এম বি বাকের (জামায়াত)তরুণ ও গ্রামীণ ভোটে সাড়াতে, ধারাবাহিক প্রচারণা তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।

বিএনপির আরেক প্রবীণ নেতা কাজী সালিমুল হক কামাল বলেছেন, ২ আসনের জনগণ আমাকে চাইছেন দল ঐক্যবদ্ধ হলে মাগুরা–২ থেকে বিএনপির জয়ের বিকল্প নেই। তবে অভ্যন্তরীণ বিভাজন পরিস্থিতি জটিল রেখেছে।

আইন–শৃঙ্খলা: প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মাগুরায়। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারাজী বেনজীর আহম্মেদ বলেন, সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। অন্তবর্তী সরকারেরনির্দেশনায়,র‌্যাব–পুলিশের যৌথ টহল, বিশেষ নজরদারি, সংঘর্ষ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা, সবই নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলার স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় জানান, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে জনগণের ভোটাধিকার নিরাপদ নিশ্চিত করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

জেএইচআর