ভোটার প্রায় ৪ লাখ

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে তীব্র উত্তাপ, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

ওসমান হোসাইন, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০২:৪৮ পিএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম-১৩ (সংসদীয় আসন ২৯০) আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ গুরুত্বপূর্ণ আসনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক নির্বাচনমুখর পরিবেশ। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের হালনাগাদ তথ্যমতে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন। পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান হওয়ায় দুই উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রত্যাশিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ভোটার কাঠামো অনুসারে, আনোয়ারা উপজেলায় (১১ ইউনিয়ন) পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৮ জন। কর্ণফুলী উপজেলায় (৫ ইউনিয়ন) পুরুষ ভোটার ৭১ হাজার ৬২৬ জন এবং নারী ভোটার ৬৩ হাজার ৪৩৭ জন। নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ১১৭টি ভোটকেন্দ্র ও ৭৫৭টি ভোটকক্ষ (বুথ) নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে আনোয়ারায় ৭৩টি এবং কর্ণফুলীতে ৪৪টি কেন্দ্র থাকবে।

রাজনৈতিক মাঠে সরব সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, এনসিপি সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে জনসংযোগ, মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক, পথসভা ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দুই উপজেলায় নির্বাচনী আলোচনা এখন চায়ের দোকান পর্যন্ত বিস্তৃত। 

তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টিসহ বাম এবং অন্যান্য ইসলামি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী কিংবা নেতা-কর্মীদের তেমন কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে না। মূলত এই আসনটিতে বিএনপি সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এই আসনের প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হলো কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরের উন্নয়ন, আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্প্রসারণ, কৃষি ও মৎস্য খাতে অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, সড়ক যোগাযোগ আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান। স্থানীয় জনদুর্ভোগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং নদীভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়ন সব মিলিয়ে নির্বাচনী ইস্যুগুলো এবার আরও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিএনপির চলমান অন্তঃকোন্দল, সাংগঠনিক দুর্বলতা রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটিকে এক প্রকার কোণঠাসা অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও বর্তমান সময়কে কাজে লাগিয়ে শক্ত অবস্থানে বিশেষ করে বিএনপির দুর্বল অবস্থান কাজে লাগিয়ে প্রচারাভিযানে এগিয়ে আছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে জামায়াত আরও প্রভাবশালী অবস্থানে উঠে আসতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম-১৩ দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী আসন। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর এ আসনে রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা করছেন।

ইএইচ