পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ০৪:৪৭ পিএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সবুজ ইসলাম (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

বুধবার রাত ২টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনার পর বিএসএফ তার লাশ ভারতের ভেতরে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার ফুলকাডাবরী খালপাড়ার বিপরীতে অবস্থিত বাংলাদেশের জগতবেড় ইউনিয়নের পঁচাভান্ডার সীমান্ত এলাকা। বুধবার গভীর রাতে সীমান্ত পিলার ৮৬৪-এর ৫ নম্বর উপ-পিলারসংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের ৮–১০ জন গরু পাচারকারী সীমান্তের কাছে যায়। এ সময় বাংলাদেশি কয়েকজন পারাপারকারি প্রায় ৩০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে ১৬৯ কোচবিহার রাণীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চেনাকাটা ক্যাম্পের টহলদল তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে সবুজ ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি জগতবেড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

সবুজ ইসলাম স্থানীয় বাজারে মুদি দোকান রয়েছে বলে জানা যায়। তার এক বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

ঘটনার পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর ক্যাম্প কমান্ডার ও টহল দল রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বৃহস্পতিবার সকালে শমসেরনগর কোম্পানি কমান্ডার চেনাকাটা বিএসএফ ক্যাম্পকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানান। সকাল ১০টায় উভয় দেশের কোম্পানি কমান্ডারসহ ১০ জন করে সদস্য নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জগতবেড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অহেদ আলী জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিজিবির পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে ঘটনার বিষয়ে জানানো হয় এবং ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়। অসুস্থতার কারণে তিনি যেতে পারেননি। পরে সকালে সবুজের বাড়িতে গিয়ে দেখেন ঘরে তার মা, স্ত্রীসহ কেউ নেই।

শমসেরনগর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কামাল উদ্দিন জানান, পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিককে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং লাশ ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। বিএসএফ জানিয়েছে, লাশ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর হয়েছে; ময়নাতদন্ত শেষে তা ফেরত দেওয়া হবে। বিকেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে আরও একটি পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ইএইচ