ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানিতে লোকসানের মুখে ভেড়ামারার কৃষকরা

হেলাল মজুমদার, ভেড়ামারা প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৭:৫৭ পিএম

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলন ভালো হলেও ভারত থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ আমদানি করায় দেশি পেঁয়াজের বাজারে ধস নেমেছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন শত শত চাষি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভেড়ামারার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া ও গোসাইপাড়াসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে ২৫৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। 

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৮০ মণ ফলন আশা করা হচ্ছে। তবে উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বাজারমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

চাষিদের অভিযোগ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে প্রতি বিঘা পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। 

মালিপাড়া এলাকার কৃষক আরিফুল ইসলাম জানান, গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৩৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন তিনি। গত সপ্তাহে বাজারদর ভালো থাকলেও হঠাৎ আমদানি করা পেঁয়াজ আসায় দাম ব্যাপক কমে গেছে। ফলে ৩৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ১৫ লক্ষ টাকা লোকসানের ঝুঁকিতে আছেন তিনি। একইভাবে জাহাঙ্গীর হোসেন ও তরিকুল ইসলামসহ অনেক কৃষক জানান, বর্তমান বাজার দরে পেঁয়াজ বিক্রি করলে ঋণের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।

ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা জানান, রবি মৌসুমে কৃষকদের প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় উৎপাদনও চমৎকার হয়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে।

হাওরপার ও চরাঞ্চলের কৃষকদের দাবি, দেশি পেঁয়াজ বাজারে থাকা অবস্থায় অন্তত দুই মাস বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ রাখতে হবে। তা না হলে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবেন কৃষকরা, যা ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ইএইচ