চিলমারীতে টানা শৈত্যপ্রবাহে বোরো বীজতলা নিয়ে হতাশ কৃষক

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় ইরি-বোরো বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। গত ৫ দিন ধরে এলাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে বোরোর বীজতলা হলুদ ও বিবর্ণ রঙ ধারণ করছে। 

বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং এতে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহে ইরি-বোরো ধানের বীজতলার সবুজ রঙ বদলে গিয়ে হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় কৃষকরা বীজতলা রক্ষায় বিভিন্ন প্রকার উদ্যোগ নিচ্ছেন। 

কেউ বীজতলা রক্ষার জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন, আবার কেউ ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন। তবুও চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের হতাশা কাটছে না।

উপজেলা থানাহাট ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকার কৃষক আকরাম হোসেন বলেন, তিনি ১২ শতক জমিতে ব্রি-ধান ১০০ জাতের বীজতলা বপন করেছেন। কিন্তু ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড শীতের কারণে বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে, যা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।

একই ইউনিয়নের রাজারভিটা এলাকার কৃষক আ. কাদের জানান, ইরি-বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করেছেন, কিন্তু ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে চারাগুলো বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশা থেকে রক্ষার জন্য বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢাকার পরও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করার কারণে কিছু বীজতলা সাময়িক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলেও চারা সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইএইচ