কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের প্রধান সড়কের ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান। এসব ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে সকালে উচ্ছেদের পর সন্ধ্যায় যেন তা আবার পুনর্দখল না হয়ে যায়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ভেড়ামারা পৌরসভা ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই ফুটপাতগুলো পুরোপুরি দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে ভেড়ামারার ফুটপাতগুলো দখলে থাকায় পথচারীদের হাঁটার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। বাধ্য হয়ে তারা চলাচলের জন্য মূল সড়ক ব্যবহার করছেন। ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। সেই সাথে পথচারীদের দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
ফুটপাত দিয়ে চলাচলকারী হাসিবুর রহমান নামে এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুটপাতগুলো যেন জমি দখলের মতো দখল হয়ে গেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
শফিকুল নামের আরেক পথচারী বলেন, শহরের মেইন রাস্তার ফুটপাত দখল থাকায় বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়, যা পথচারীদের জন্য খুবই বিপজ্জনক। বেশিরভাগ সময় রাস্তায় প্রচণ্ড যানবাহনের চাপ থাকে, তাই রাস্তা দিয়েও নিরাপদভাবে চলাচল করা যায় না। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আরেক নারী পথচারী বলেন, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় অনেক মানুষের ধাক্কা খেতে হয়। বিশেষ করে নারী পথচারীদের প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। তবে ফুটপাত দখল করে থাকা বিভিন্ন দোকানির সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি অভিযোগ করে বলেন, টাকা দিয়ে দোকান বসিয়েছি এবং প্রতিদিন চাঁদাও দিতে হয়। এখানে বসার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া লাগে। অন্যদিকে বেশিরভাগ দোকানি বলছেন, আমাদের তো ব্যবসা হয়। এর মাধ্যমেই ছেলে-সন্তান নিয়ে দুই মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারি। তারা চান মানুষও হাঁটুক, আবার তাদের ব্যবসাও চলুক।
ইএইচ