অরক্ষিত মাটিয়ান হাওরের আলমখালি ক্লোজার বাঁধ। কাজ করার জন্য কোনো লোক খুঁজে পাচ্ছেন না পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে বাঁধটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মাটিয়ান হাওরের পাড়ের অর্ধ শতাধিক গ্রামের কৃষক।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মাটি না থাকার কারণে কোনো কৃষক বাঁধে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না।
অন্যদিকে এলাকার কৃষকসহ বাঁধ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কাজের নিয়োজিত লোকজন জানিয়েছেন, গত বছর এ বাঁধের শতভাগ কাজ করার পরও বিল কম দেওয়ার কারণে কোনো কৃষক কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না।
জানা যায়, উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বোরো ফসলি হাওর মাটিয়ান। মাটিয়ান হাওরে বড়দল মেশিন বাড়ি বাঁধ, উমেদপুর কুরির বাঁধ, মাটিয়ান বিলের ক্লোজার, আলমখালি ক্লোজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার ও বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে দু-একটি বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড পিআইসির মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু কাজ শুরু করার তারিখ থেকে এক মাস অতিবাহিত হলেও মাটিয়ান হাওরের কাউকান্দি ও বড়দল গ্রামের মধ্যবর্তী স্থান আলমখালি ক্লোজার বাঁধে কাজ করার জন্য কোনো লোক এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাঁধটি নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন হাওরপারের কৃষক।
স্থানীয় বড়দল ও কাউকান্দি গ্রামের কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর পূর্বে এ বাঁধটি দৈর্ঘ্যে ৫০ ফিটের মত ছিল। বছরে বছরে আগাম বন্যায় হাওরে পানি ঢোকার সময় ভেঙে বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৩০০ ফিটের অধিক।
কাউকান্দি গ্রামের কৃষক ফকরুল ইসলাম বলেন, আগামী পনের বিশ দিন পর থেকেই মেঘ বৃষ্টি শুরু হতে পারে। বৃষ্টি শুরু হলে জাদুকাটা নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামে। ঢলের পানি গোলাঘাট নদী হয়ে সরাসরি আঘাত করে মাটিয়ান হাওরের আলমখালি বাঁধে। তাই এ বাঁধটি হাওরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু করার কথা। আজ এক মাস পেরিয়ে গেল এখনো বাঁধের কাজ করার জন্য লোকই ঠিক করা যাচ্ছে না বিষয়টি খুবই মর্মাহত করে আমাদের।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, গত বছর মাটিয়ান হাওরের আলমখালি বাঁধের কাজটি পিআইসির মাধ্যমে আমি করেছি। শতভাগ কাজ করার পর তখনকার সময়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমান জেলা প্রশাসক পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনকে শতভাগ বিল দেওয়ার জন্য বলেছেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাকে ৭৫ পার্সেন্ট বিল দিয়েছে। এখনো আমার ৩ লক্ষ টাকা লস আছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, লোক পাওয়া যাচ্ছে না এটা সত্য। কিন্তু যিনি গত বছর কাজ করেছেন তাকে বিল কম দেওয়া হয়েছে বিষয়টি সঠিক নয়।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মনিটরিং কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান মানিক বলেন, মাটিয়ান হাওরের আলমখালি বাঁধের আশপাশে মাটি না থাকার কারণে কোনো কৃষক বাঁধের কাজ করতে আগ্রহী নন। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দ্রুতই কাজ শুরু করব।
ইএইচ