নাটোরে জনস্বার্থে ব্যবহৃত পৌরসভার একটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় ব্যবহারের ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাত্র একদিনের মাথায় প্রচারণাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সোমবার সকাল থেকে নাটোর পৌরসভার ওই অ্যাম্বুলেন্সটিতে নির্বাচনী স্টিকার লাগিয়ে এবং সাউন্ড সিস্টেম বসিয়ে শহরজুড়ে মাইকিং করতে দেখা যায়।
প্রথমে পৌরসভার প্রধান ফটকের সামনে এবং পরে কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালানো হয়। জীবনরক্ষাকারী একটি বাহনকে এভাবে রাজনৈতিক বা নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
অ্যাম্বুলেন্সটির পটভূমি পৌর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের শুরুতে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভাকে এই অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি উপহার দিয়েছিল। তৎকালীন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাট্টি নিজে উপস্থিত থেকে এর চাবি হস্তান্তর করেছিলেন। মূলত মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য এটি ব্যবহৃত হওয়ার কথা।
নাগরিক প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের বক্তব্য স্থানীয় সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মুনছুর এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, অ্যাম্বুলেন্স মানেই জীবন বাঁচানোর বাহন। এটি যদি ভোটের প্রচারে ব্যবহৃত হয়, তবে অসুস্থ মানুষ যাবে কোথায়? এটি তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে নাটোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি বর্তমানে পৌরসভার গ্যারেজে রাখা হয়েছে। কার নির্দেশে এটি প্রচারণায় নামানো হয়েছিল, তা আগে পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। অন্যদিকে নাটোর পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এস.এইচ.এম. মাগফুরুল হাসান আব্বাসী বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন।
জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম সজ্জিত এই অ্যাম্বুলেন্সটিকে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করায় প্রশাসনের নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাটোরের সচেতন মহল।
জেএইচআর