কর্ণফুলীর মা ও শিশু হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

মায়ের কোলে আসার আগেই নিভে গেল একটি নবজাতকের জীবন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় প্রসব করানোর চেষ্টায় এক কন্যাশিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে প্রসববেদনায় কাতর এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

স্বজনদের অভিযোগ, ওই সময় হাসপাতালে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও অনভিজ্ঞ নার্স ও প্যারামেডিক দিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হয়। এতে নবজাতকটির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।

নবজাতকের বাবা এরফানুল হক জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রসবের আগ পর্যন্ত তার সন্তানের হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক ছিল। চিকিৎসক ছাড়া প্রসব করানোর সিদ্ধান্তই সন্তানের মৃত্যুর কারণ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তানভীর সুলতানা মুন্নি ও আলিয়া আক্তার নামের দুজন প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। তারা নিজেদের যথাক্রমে মিডওয়াইফ ও প্যারামেডিক হিসেবে পরিচয় দেন।

প্রসবের সময় হাসপাতালে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এ তথ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে। নবজাতকের মৃত্যুর খবরে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে ক্ষোভে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে তর্কে জড়ান এবং হাসপাতালের কিছু অংশে ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীত কুমার বলেন, সাধারণত তিনি নিজে প্রসবের সময় উপস্থিত থাকেন। তবে অসুস্থতার কারণে আজ হাসপাতালে যেতে পারেননি। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ইএইচ