মাগুরা শহরের সাজিয়ারা এলাকায় একটি হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না, নিষিদ্ধ রঙের ব্যবহার এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নানা অনিয়ম পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মেসার্স রাকিব হোটেলে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুর রাজ্জাককে এই জরিমানা করা হয়।
অভিযানে দেখা যায়, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা হচ্ছে খাবার। মেঝেতে খোলা অবস্থায় খাদ্যদ্রব্য রাখা হয়েছে। কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো চিহ্ন নেই। ব্যবহৃত টয়লেটে সাবান বা হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
কর্মচারীরা টয়লেট ব্যবহারের পর যথাযথভাবে হাত না ধুয়েই রান্নার কাজে যুক্ত হচ্ছিলেন। এ ছাড়া খাবারে নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত রঙ ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
ফ্রিজে রান্না করা খাবারের সঙ্গে রক্ত ও জীবাণুযুক্ত কাঁচা মাছ ও মাংস একই স্থানে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। যা আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।
তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে এমন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমন অধিকারী বলেন, রান্না ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। এ ধরনের অনিয়ম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। মাগুরা জেলা পুলিশের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।
হোটেলের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভুলত্রুটি হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ করেছি। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করব।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জেএইচআর