চারদিন হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার

রাশেদুল ইসলাম, কক্সবাজার প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

কক্সবাজারের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এর একটি লিফটের নিচ থেকে চারদিন পর রক্তাক্ত অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মরদেহটির সন্ধান মিললে হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

নিহত কোহিনুর আক্তার (৩২) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতারপ্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।

স্বজনদের ভাষ্য, গত বুধবার (৩ মার্চ) নিজের সাত বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন কোহিনুর। মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেদিন বিকেল থেকে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিহতের স্বামীর ভাতিজা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “চারদিন ধরে আমার চাচিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা র‍্যাব ও পুলিশকেও বিষয়টি জানিয়েছিলাম। শনিবার হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, নিখোঁজের দিন তিনি চারতলার একটি লিফটে প্রবেশ করেন। এরপর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিফটটি পরীক্ষা করলে সেখানে তার মরদেহ পাওয়া যায়।”

তিনি বলেন, এটি লিফট দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা দ্রুত তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।

ঘটনাটি ঘিরে সরকারি হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়দের অভিযোগ, চারদিন ধরে একটি মরদেহ লিফটের নিচে পড়ে থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা টের পায়নি—যা চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার শামিল।

চিকিৎসা নিতে আসা রামুর বাসিন্দা তৈয়ব হোসেন বলেন, “এ ঘটনার দায় হাসপাতালকে নিতে হবে। লিফটের নিয়মিত ত্রুটি যাচাই ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এমন ঘটনা ঘটত না। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিংঞোর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এএন