পাহাড়ে বৈসাবী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু 

মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙ্গামাটি প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু এ উৎসবকে ঘিরে রাঙ্গামাটিতে ৫দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।

উৎসবকে ঘিরে সোমবার বিকাল ৩টায় জেলা পরিয়দ ও রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট যৌথ আয়োজনে, রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজ মাঠ প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন, পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়া।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে  মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অনুপ কুমার চাকমা, সেনাবাহিনীর রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট রাঙামাটি পরিচালক জিতেন চাকমাসহ প্রমুখ।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যদি পিছিয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোনো জায়গায় বৈষম্য থাকবে না; সেটা পাহাড় হোক কিংবা সমতল হোক। কাজেই আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে হলে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা প্রত্যেক বছর অপেক্ষা করি এই বিজু উৎসবের জন্য। এই বিজু উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা সকলেই এক মিলন মেলায় পরিণত হই; সেই মিলন মেলা আমাদের ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে হবে। বর্তমান বিএনপি সরকার কাউকে ফেলে নয় কাউকে রেখে নয়, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে নিয়ে যাবেও জানালেন দীপেন দেওয়ান।

৫দিনের বিজু- সাংগ্রাই, বৈসু ,বিষু বিহু উপলক্ষে এই মেলায় রয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, নাটক মঞ্চায়ন ও পণ্য প্রদর্শনী। মেলায় প্রায় শতাধিক স্টলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হস্তশিল্প, পোশাক, অলংকার ও ঐতিহ্যবাহী খাবার নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদি বিভিন্ন পণ্য সমগ্রি। 

আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। এছাড়া ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী মূল উৎসব উদযাপিত হবে, যা মারমাদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলির মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

জেএইচআর