মহেশপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল বোরো আবাদ, সেচ ও জ্বালানি সংকটে বিপাকে কৃষক

সাইফুল ইসলাম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে তীব্র সেচ সংকট, ডিজেল ঘাটতি এবং বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মহেশপুরে মোট ২১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ২১ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধান আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে ব্রিধান-২৯, মিনিকেট, ব্রিধান-৮৯, ৯২, ১০১, ১০৮ এবং বিনাধান-২৫ উল্লেখযোগ্য।

উপজেলায় ৫ হাজার ১২৫ হেক্টর জমি বিদ্যুৎচালিত সেচ এবং ১৬ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমি ডিজেলচালিত সেচের ওপর নির্ভরশীল। কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেলের তীব্র সংকটের কারণে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে একবারে ৫০০ টাকার বেশি ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না, যা সেচ কাজের জন্য পর্যাপ্ত নয়। আজমপুর, পান্তাপাড়া ও যাদবপুর ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, ঘন ঘন লোডশেডিং ও তেল সংকটে জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে ধান গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সেচ সমস্যার পাশাপাশি শ্রমিকের চড়া মজুরি, পরিবহন ব্যয় এবং কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করেছে। তবে বর্তমানে মাঠজুড়ে ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে এবং কিছু এলাকায় সোনালী রঙ ধারণ করছে, যা দ্রুত কাটার উপযোগী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি এবং সেচ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করছি। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হলেও সেচ ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

জেএইচআর