কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা জানারঘোনা এলাকায় গৃহবধূ মুন্নি আক্তারকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে ঘাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম।
তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর মুন্নির শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা মাথা ও হাতের কব্জি খুরুশকুল নতুন ব্রিজের নিচে বাঁকখালী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার বিকেলে ঘাতক সাইফুলকে সঙ্গে নিয়ে ওই বিচ্ছিন্ন দেহাংশগুলো উদ্ধারে বাঁকখালী নদীতে অভিযানে নেমেছে সদর থানা পুলিশ। অভিযানে পুলিশকে সহায়তা করছে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিলংজা জানারঘোনা এলাকায় ভাড়া বাসার পাশের একটি পুকুর থেকে নিহত মুন্নির মাথাবিহীন ও কব্জিবিহীন মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই পলাতক ছিল স্বামী সাইফুল ইসলাম।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে।
সাইফুল জানায়, হত্যার পর লাশ শনাক্ত করা কঠিন করতে সে মাথা ও হাত কেটে আলাদা করে নদীতে ফেলে দেয়।
ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘাতক স্বামীকে আনার খবর পেয়ে বুধবার বিকেল থেকেই খুরুশকুল ব্রিজের নিচে উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকার সাহায্যে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালাচ্ছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “আটক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বিচ্ছিন্ন দেহাংশগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি। জোয়ার-ভাটা ও নদীর স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও আমাদের টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট), বাঁকখালী নদীতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখনো নিখোঁজ দেহাংশগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘাতক সাইফুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে মুন্নি হত্যার প্রধান আসামি ঘাতক সাইফুলকে আদালতে তোলার খবর পেয়ে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন মুন্নির এলাকা মহেশখালী থেকে আসা অসংখ্য নারী-পুরুষ।
এএন