পুরানো বছরের সব দুঃখ ও গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রাঙামাটিতে উদযাপিত হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রাই জল উৎসব’।
শুক্রবার দুপুরে রাঙামাটির চিংহ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়াম মাঠে মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা (মাসস) এই উৎসবের আয়োজন করে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের সপ্তাহব্যাপী প্রধান সামাজিক উৎসবের (বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু) সমাপ্তি ঘটলো।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বর্ণাঢ্য উৎসবের উদ্বোধন করেন। মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থার জল উৎসব কমিটির আহ্বায়ক পাইংচি মং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এবং পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ১২টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে পাহাড়-সমতলে কোনো বৈষম্য রাখা হবে না।
আলোচনা সভা শেষে ফিতা কেটে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এরপরই শুরু হয় উৎসবের মূল আকর্ষণ ‘পানি খেলা’। ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় রাখা পানি দিয়ে তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে ছিটিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন। মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, এই পবিত্র বারিবর্ষণের মাধ্যমে অতীতের সব জরাজীর্ণ ও অশুভ শক্তি ধুয়ে-মুছে যায়।
জল খেলার পাশাপাশি মারমা শিল্পীদের মনোজ্ঞ নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব দেখতে হাজারো পর্যটক এবং পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবস্থল এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
জেএইচআর