পাঁচবিবিতে অসুস্থ ছেলেকে বাঁচাতে ভূমিহীন পিতার আকুতি

মো. আলী হাসান, জয়পুরহাট প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে চা বিক্রেতা কোরবান আলীকে বাঁচাতে এক অসহায় ভূমিহীন পিতার আকুতি জনমনে গভীর নাড়া দিয়েছে। জীবিকার তাগিদে পাঁচবিবি পৌর শহরের স্টেশনের পূর্ব পাশে বরগাহাটি এলাকায় চা বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালাতেন কোরবান। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় এখন তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী, তার চিকিৎসার ভার বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার।

জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কোরবান আলীর পিঠে হঠাৎ তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে প্রথমে তাকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ১৬/১২/২০২৫ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মেরুদণ্ডে টিউমার ধরা পড়ে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করা হলেও দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস পার হলেও কোরবানের দুই পাসহ শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে আছে। বর্তমানে তিনি হাঁটাচলা করতে অক্ষম এবং বিছানায় শুয়েই খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজ করতে হচ্ছে। এতে করে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, কোরবানের মেরুদণ্ডের স্নায়ুর প্রায় ৯০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মাত্র ১০ শতাংশ কার্যকর রয়েছে। তবে নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, যার জন্য সময় লাগতে পারে ছয় মাস থেকে এক বছর। তবে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা করা গেলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।

কোরবানের পিতা আবুল কালাম বলেন, আমার কোনো জমিজমা বা বাড়িঘর নেই। মানুষের সহযোগিতায় একটি ছোট্ট টিনশেড ঘর করে পান-সিগারেটের দোকান চালাই। ছেলেকেও একটি চায়ের দোকান করে দিয়েছিলাম। এভাবেই আমাদের সংসার চলছিল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সবকিছু থেমে গেছে। বর্তমানে আমাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। আমি ছোট্ট দোকান ঘরেই ঘুমাই আর ছেলেকে পাঁচবিবি পৌর প্রেসক্লাবের বারান্দায় রেখেছি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় দোকানদার ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ করে অপারেশন করিয়েছি। এখন ওষুধ কেনার মতো টাকাও নেই। একমাত্র আয়ের উৎস দোকানটিও প্রায় বন্ধ। ছেলেকে দেখাশোনা করতেই সারাদিন কেটে যায়। বর্তমানে আমার ছেলের দুই পা অবশ অবস্থায় আছে। নিজে নিজে হাঁটাচলা করতে পারে না। আমার কোনো জায়গা-জমি বা এমন কিছু নেই যে আমি বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করাবো।

একজন সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে কোরবানের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, কোরবানের মা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে বৃদ্ধ বাবাকেই সব দায়িত্ব বহন করতে হচ্ছে। একসময় সুস্থ-সবল ছেলেটির এমন করুণ অবস্থা দেখে সবাই মর্মাহত। তারা সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

সবার সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে কোরবান আলী আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তার পরিবার ও স্থানীয়দের।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন কোরবান আলীর পিতা আবুল কালাম। 

কোরবানের সাথে যোগাযোগ ও সাহায্য পাঠানোর নম্বর (বিকাশ ও নগদ): ০১৯৪৩৯৪২৩৩৯।

এএন