সরকারি জমি দখল করে খাল ভরাট, দুর্ভোগে গ্রামবাসী

রায়হান জামান, কিশোরগঞ্জ প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সরকারি জমি দখল করে খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইমরান নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন মাটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়াসহ কৃষিকাজ ও চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের পশ্চিম রোদাপুড্ডা গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শতবর্ষী বেতিয়ারা খালের পাশের গ্রামীণ সড়কের প্রবেশদ্বারে সরকারি জমি দখল করে মাটি ভরাট করা হয়েছে এবং পিলার বসিয়ে সীমানা ঘেরা হয়েছে। এতে সড়কটি সরু হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া সড়কে পানি জমে থাকায় হাঁস ভেসে বেড়াচ্ছে। পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়কের বিপরীত পাশে ভাঙন সৃষ্টি হয়ে ফসলি জমিও ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেতিয়ারা খালের পাশের গ্রামীণ সড়কটি পশ্চিম রোদাপুড্ডা গ্রামের প্রায় ৪০০-৫০০ মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। হাওর এলাকার কৃষিপণ্য ঘরে তোলা ও হাট-বাজারে পরিবহনের জন্য এই সড়কই ব্যবহার করা হয়। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় সড়কের প্রবেশমুখে ফেলা মাটি ও পিলার দিয়ে নির্মিত সীমানা বেড়া অপসারণ না করলে গ্রামবাসীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে অবৈধ ভরাট বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম বলেন, ইমরান প্রভাবশালী হওয়ায় নিকলীর বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ত্রাসী এনে একদিনে সরকারি জায়গা দখল করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় আমরা হুমকির মুখে রয়েছি। এই খালটি আমাদের এলাকার কৃষির প্রাণ। জনস্বার্থে অবিলম্বে খালটি উদ্ধার করে পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ইমরান বাহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে সরকারি জায়গা দখল করে খাল ভরাট ও গ্রামীণ সড়কে বেড়া দিয়েছেন। এতে গ্রামবাসী আমার কাছে অভিযোগ করলে আমি তাদের উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলি, পরে তারা অভিযোগও দেয়। এরপর এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে এসে সরকারি জায়গা থেকে মাটি সরানোর নির্দেশ দেন, কিন্তু ইমরান তা কর্ণপাত করেননি। বর্তমানে আমি গ্রামবাসীর পক্ষে প্রতিবাদ করায় আমাকে ভূমিদস্যু আখ্যা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্ত ইমরান হোসেন বলেন, তিনি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। পরবর্তীতে এসিল্যান্ড আসছেন বলে শুনেছেন। তবে মাটি সরানোর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, তা তার জানা নেই।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, জায়গাটি সরকারি বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মাটি সরাতে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, এলাকাবাসী খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত অবৈধ ভরাট অপসারণ ও পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন।

এএন