গুরুদাসপুরে একই রাতে গরু চুরি ও ডাকাতি, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় একই রাতে পৃথক দুটি ঘটনায় গরু চুরি ও সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি পরিবারের প্রায় ১০ লাখ টাকার গরু চুরি হওয়ার পাশাপাশি অপর এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে উপজেলার আনন্দনগর টেকনিক্যাল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় রমজান হাজির পরিবারের গোয়ালঘর থেকে ৬টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আজিজুল হক জানান, রাত ১০টার দিকে গরুগুলো দেখে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। পরে রাত আড়াইটার দিকে কলেজের নাইটগার্ড তাকে জানালে বিষয়টি জানতে পারেন। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, একই রাতে পৌরসদরের কামারপাড়া এলাকায় ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান সোনার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভোর প্রায় ৪টার দিকে জানালা ভেঙে ২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্ত্রীকে বেঁধে ফেলে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয় তারা।

ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান সোনা বলেন, “মুখ বাঁধা ডাকাতরা চাপাতি ও হাসুয়া নিয়ে আমাদের জিম্মি করে। শব্দ করলে হত্যার হুমকি দেয়। পরে সবকিছু নিয়ে চলে যায়।”

এদিকে গরু চুরির ঘটনার পরপরই আজিজুল হক মোটরসাইকেলে করে চাচকৈড় পুরাতন ব্রিজ এলাকায় গিয়ে খোঁজ নেন। সেখানে নাইটগার্ডের কাছ থেকে জানতে পারেন, একটি বড় পিকআপভর্তি গরু ব্রিজ পার হয়ে নদীর ধারের মাছের আড়তের সামনে দিয়ে চলে গেছে। পরবর্তীতে নয়াবাজার পর্যন্ত খোঁজ করেও গরুগুলোর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুরুল আলম বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত চোর ও ডাকাত চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এএন