টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পাঁচটি ইটভাটার চিমনির বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৬টি গ্রামের শত শত একর জমির বোরো ধান পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দুই শতাধিক কৃষক ক্ষতিপূরণের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটা থেকে নির্গত গ্যাসের কারণে ধানগাছের পাতা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে, যা তাঁদের সারা বছরের খাদ্যের সংস্থানকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
উপজেলার বহুরিয়া ও ভাওড়া ইউনিয়নের কোট বহুরিয়া, চড়পাড়া, বুধিরপাড়া, মন্দিরাপাড়া, সরিষাদাইড় ও ভাওড়া গ্রামে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এফবিসি, আরইউবি, সান, হাদি এবং এনএসটি ব্রিকস নামক ইটভাটাগুলোর ইট পোড়া বন্ধ করার সময় নির্গত গ্যাসে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বুধিরপাড়া গ্রামের বিধবা ফাহিমা বেগম ও মন্দিরাপাড়ার নূরতাজ হোসেনের মতো অনেক কৃষক তাঁদের একমাত্র সম্বল হারিয়ে এখন দিশেহারা।
ইটভাটা মালিকরা ধোঁয়া ছাড়ার কথা স্বীকার করলেও একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। আরইউবি ব্রিকস এর মালিক ইব্রাহিম মিয়া জানান, ভাটা মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ কৃষকদের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এদিকে, টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে চলা এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মির্জাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহমুদা খাতুন জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত ক্ষতির তালিকা নিরূপণ ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব বিক্ষোভকারী কৃষকদের সাথে দেখা করে তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি কৃষি কর্মকর্তাকে একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
জেএইচআর