গাসিক ও বিভাগীয় কমিশনারের বিরুদ্ধে করা রিট খারিজ

গাজীপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

রাস্তা নির্মাণে জমি দখলের মিথ্যা অভিযোগে করা রিট এবং আদালত অবমাননার মামলা খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালতের সময় নষ্ট ও সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানির দায়ে রিটকারী শহিদুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি মো. মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

২০২১ সালে গাজীপুর মহানগরীর চতর বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাস্তা নির্মাণের সময় তাঁর ব্যক্তিগত জমির ক্ষতি করা হচ্ছে। 

ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তিনি স্থানীয় সরকার সচিব, জেলা প্রশাসক ও সিটি মেয়র জায়েদা খাতুনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আরও একটি পিটিশন দাখিল করেন।

মামলার শুনানিতে আদালত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও তৎকালীন গাসিক প্রশাসক মো. শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে সশরীরে তলব করেন। আদালতে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিভাগীয় কমিশনার প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ আদালতের নির্দেশনা মেনে সম্পন্ন করা হয়েছিল। এছাড়া নির্মাণকাজে বাদীর কোনো স্থাপনা বা ব্যক্তিগত জমি দখলের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

শুনানি শেষে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, বিভাগীয় কমিশনার বা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ আদালতের কোনো আদেশ অমান্য করেননি। বরং বাদী মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করেছেন। বিবাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রিটটি খারিজ করেন এবং বাদীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মিথ্যা মামলার কারণে বিভাগীয় কমিশনারকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হতে হওয়ায় আদালত উষ্মা প্রকাশ করেছেন। 

অন্যদিকে, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, আদালতের আদেশের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা সব সময় নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। 

আদালত সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারি কাজে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

জেএইচআর