“কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”- নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ধানের দাম এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা। এই দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মেহনতি সাধারণ কৃষকরা।
একদিকে প্রকৃতির বৃষ্টিতে ধান ভিজে যাচ্ছে, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তার ওপর স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধানের দাম কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ যেন ব্রিটিশ নীলচাষীদেরকেও হার মানিয়েছে।
এলাকার সাধারণ কৃষক রইচ উদ্দিন টিপু, এচকেন মৃধা, মানিক শেখ, ফরিদ সিকদার, রফিকুল মণ্ডলসহ শতাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, “আমরা শুনছি কৃষক নাকি বাংলাদেশের জান! এ কি করতিছে আমাগো সরকার মাইরে ফেলাক! সারা বছর কষ্ট করে ধান করি, আর দাম পাই ১১০০ টাকা মন। শুনছি নীল সাহেবরা জোর করে নীল চাষ করাইত, তাও ন্যায্য দাম দিত। এ তো তার চেয়েও খারাপ। সামনের বছর রিকশা চালাতে যামু, ধান আর লাগামু না।”
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন ধান ব্যবসায়ী বলেন, সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি ও মিলাররা কম দামে ধান ক্রয় করায় বাজারে ধানের দামে ধস নেমেছে।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “লোহাগড়ায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধানের মূল্য সরকার নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট দামে রয়েছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কেন সিন্ডিকেট করছে, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
নড়াইল জেলার ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামীম হাসান বলেন, “ধান ক্রয়-বিক্রয় ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় পড়ে না। বিষয়টি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার বিষয়।”
ধানের দাম নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। এলাকাবাসীর দাবি- ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
এএন