মাগুরার সদর উপজেলার কছুন্দী ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে নিজের গোয়ালঘর থেকে গরু ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার আনুমানিক সকাল ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যরা গোয়ালঘরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
নিহত ব্যক্তি মো. আকামত বিশ্বাস (৪৫)। তিনি পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। নিহতের খবর পেয়ে মাগুরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পাওনা টাকা ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফল ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
নিহতের ছোট ভাই নান্নু বিশ্বাস অভিযোগ করেন, তার ভাইকে হত্যা করে পরে গোয়ালঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আকামত বিশ্বাসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া যেভাবে মরদেহটি পাওয়া গেছে, তা আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও পরিবারের সন্দেহ।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আকামত বিশ্বাস সাধারণত অন্য একটি স্থানে রাত যাপন করতেন। তাদের ধারণা, ঘটনাস্থলের বাইরে কোথাও তার ওপর হামলা চালিয়ে পরে মরদেহ গোয়ালঘরে এনে ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। তবে এসব তথ্যের স্বতন্ত্র সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গরুর ব্যবসা, অর্থ লেনদেন এবং পাওনা টাকা নিয়ে আকামত বিশ্বাসের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ ছিল। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগও আগে থানায় দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক টাকা ভাগাভাগি এবং পাওনা টাকা বিরোধের জের ধরেই এই ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মাগুরা সদর থানা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তদন্তে আত্মহত্যা, হত্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আকামত বিশ্বাসের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুকে হত্যা বা আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করেনি। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
এএন