গোয়ালন্দে তামাকমুক্ত দিবস পালন হলেও কৃষক সচেতনতা সভা অনুপস্থিত

মো. সাজ্জাদ হোসেন, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

৩১ মে, বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। ঈদের সরকারি ছুটি থাকায় আজ রোববার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

কিন্তু সভা ও র‍্যালিতে কোনো কৃষককে দেখা যায়নি। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনে পালিত হলেও গোয়ালন্দে চাষিদের পিছু ছাড়ছে না ক্ষতিকর এই তামাক। এ উপজেলায় তামাকের জন্য সরকারের নানামুখী নিরুৎসাহিতকরণ পদক্ষেপ সত্ত্বেও কমেনি এর আবাদ।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে র‍্যালি ও আলোচনা সভায় এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক প্রদীপ কান্তি পালসহ ইউপি চেয়ারম্যান, এনজিও কর্মী ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কাগজে-কলমে গোয়ালন্দে ৭ হেক্টর ও ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে ১০ হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছরে ৩ হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ বেড়েছে। যদিও বাস্তবে এর পরিমাণ অনেক বেশি। দিন যাচ্ছে, এ উপজেলায় তামাকের আবাদ বাড়ছে; এ বিষয়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নেই কোনো তদারকি ও সভা-সেমিনার। মূলত বিকল্প ফসলের বীজ প্রাপ্তিতে জটিলতা, উচ্চ উৎপাদন খরচ, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং কোল্ড স্টোরেজ বা সংরক্ষণ সুবিধার অভাব চাষিদের আবার সেই তামাকের দিকেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এর ওপর তামাক কোম্পানিগুলোর দেওয়া অগ্রিম ঋণ ও তামাক কেনার শতভাগ নিশ্চয়তা কৃষকদের এই ক্ষতিকর চাষে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন বিড়ি ফ্যাক্টরির তামাক ক্রয় ও প্রসেসিং কেন্দ্রগুলোর তদারকিতে গোয়ালন্দ উপজেলায় কৃষকদের তামাক চাষে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি অগ্রিম পুঁজি বা ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে ক্ষতিকর জেনেও ঋণের জালে আটকে এবং নিশ্চিত লাভের আশায় যুগ যুগ ধরে তামাকের এই বৃত্ত থেকে বের হতে পারছেন না গোয়ালন্দের চাষিরা।

উজানচর ইউনিয়নের গণি শেখের পাড়া এলাকার তামাক চাষি মোবারক খাঁ অকপটে জানান, তামাক আবাদই এখন তাদের টিকে থাকার একমাত্র ভরসা। সারা বছর তারা এই মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। একই এলাকার হাসেম শেখ বিকল্প চাষের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, ‘বিকল্প ফসল হিসেবে ভুট্টা, গম, ধান, পাট আবাদে অনেক টাকার দরকার হয়, যা আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষকদের পক্ষে জোগাড় করা কঠিন। কিন্তু তামাক চাষ করলে কোম্পানিগুলো থেকেই আগাম ঋণ পাওয়া যায়।’

আলোচনা সভায় উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধা বলেন, আগের তুলনায় তামাক চাষ অনেকটা কমে গেছে। আগে আমাদের এলাকায় উৎপাদিত তামাক বিক্রি হতো ফরিদপুর অম্বিকাপুরে। তারপর বিক্রয় কেন্দ্র চলে যায় কামারখালী, আর এখন বিক্রি করতে হয় কুষ্টিয়া নিয়ে। এজন্য অনেকেই তামাক চাষে নিরুৎসাহিত হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, কৃষকদের বার্তা পৌঁছে দিতে আমি নিজে উপস্থিত আছি। পরবর্তীতে কৃষকদের নিয়ে সভা করা হবে। তামাক চাষ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ উপজেলায় ৭ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয় এবং পরবর্তী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ১০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়। তিনি আরও বলেন, উপজেলায় তামাক চাষের লক্ষ্যমাত্রা ০% থাকার সত্ত্বেও বেশি লাভের আশায় কৃষকরা এ অর্থবছরে ৩ হেক্টর বেশি জমিতে তামাক চাষ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, যেকোনো নেশার শুরুটা হয় সিগারেট পানের মধ্য দিয়ে। অনেকেই বিড়ি, সিগারেট, হুক্কা, পান-জর্দাসহ বিভিন্ন উপাদান গ্রহণ করেন। এসব উপাদান তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এজন্য এসব বর্জন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে দোকানগুলোতে যাতে সিগারেট বিক্রি না করা হয় সে ব্যাপারে এসিল্যান্ড ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

এএন