ঝালকাঠিতে ২৫ জনের ৩৩ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

ঝালকাঠি প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে থানায় জমা রাখা ঝালকাঠির ২৫ ব্যক্তির ৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। গত ৪ জুন ঝালকাঠির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন এ সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া লাইসেন্সগুলো ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে এসব লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘দ্য আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৭৮’-এর ২৬ ধারার ক্ষমতাবলে লাইসেন্সধারীদের আগ্নেয়াস্ত্র চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিজ নিজ থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ঝালকাঠি জেলায় থাকা শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স যাচাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত ২৫ জনের ৩৩টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে ইস্যু করা বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সগুলো বহাল থাকবে এবং যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে সেই অস্ত্র ফেরত দেওয়া হবে। তবে সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে যারা এখনও আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেননি, সেসব অস্ত্র অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার সাবেক দুই উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম ও খান আরিফুর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র আফজাল হোসেন রানা, জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তালুকদার, আইন সম্পাদক রুহুল আমিন রিজভী এবং পৌর কাউন্সিলর কামাল শরীফ, রেজাউল করিম জাকির ও হাফিজ আল মাহমুদ।

তালিকায় আরও আছেন কীর্তিপাশার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মিয়া, গাভারামচন্দ্রপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লিটন, নবগ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক আকন্দসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।

এছাড়া ইয়াসমীন পপি, চন্দ্র শেখর হালদার, শাহীন মৃধা, আরিফ হোসেনসহ রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এবং জাতীয় পার্টির নেতা এম.এ কুদ্দুস খানের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে।

জেএইচআর