খুলনাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নগরী করার দাবিতে স্মারকলিপি

নুরুল আমিন, খুলনা প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১২:১১ এএম

খুলনার সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি কার্যকরভাবে চালু করা এবং খুলনাকে পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে ‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, খুলনা’। আজ বিকেলে কেসিসি ভবনে সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে এই স্মারকলিপি পেশ করেন।

স্মারকলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর বিশাল জায়গার ওপর নির্মিত ২০ কিলোওয়াটের সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গত ১৪ বছর ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অথচ মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা সংস্কার ব্যয় করলেই এই পার্কটি পুনরায় সচল করা সম্ভব।

নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, শুধু আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়াই নয়, বরং পার্কের ছাদ, হাঁটার পথ এবং পুকুরের অংশবিশেষকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মোট ৩৮১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এর ফলে আগামী ২০ বছরে প্রায় ৫১ কোটি টাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, যার বিপরীতে প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে মাত্র ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এই পুরো বিনিয়োগটি মাত্র ৫ বছরের মধ্যেই উসুল করা সম্ভব বলে স্মারকলিপিতে আর্থিক ও কারিগরি যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়।

এই প্রকল্পের পাশাপাশি খুলনা নগরীকে পরিবেশবান্ধব করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবিও স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুততম সময়ে পার্কটি চালু করা, নতুন প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, নগর ভবনসহ শহরের বড় বড় বহুতল ভবনে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বাড়ির মালিকদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া এবং সামগ্রিকভাবে খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি-বান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে ‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম খুলনা’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক রেহানা আখতার ও এনামুল হক নবাব, সদস্য গৌরাঙ্গ নন্দী, অধ্যাপক আবুল ফজল, শামীমা সুলতানা শিলু, আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু, হিমালয়, এম এম ইমরান হোসেন এবং সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির ববি।

জেএইচআর