দিনাজপুরে আউশ ধান আবাদে বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তিগ্রাম হুগলীপাড়া

দিনাজপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

দিনাজপুর সদরের হুগলীপাড়ায় স্থানীয় কৃষকরা মূলত বোরো ও আমন মৌসুমেই ধান চাষে সীমাবদ্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আউশ মৌসুমে অধিকাংশ কৃষিজমি অনাবাদি থাকত। তবে ‘স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন’ (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুরের বাস্তবায়নে হুগলীপাড়াকে ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর ধান আবাদে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

এবার প্রথমবারের মতো দিনাজপুর সদরের হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রামের সাড়ে চার একর জমিতে আউশ ধানের চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রযুক্তি গ্রামের প্রবেশপথে ১৪টি ভিন্ন জাতের ধান নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি নজরকাড়া ‘রাইস গার্ডেন’ বা ধান বাগান, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধানের জাত সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন।

দেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জমিতে বোরো ও আমন ধানের আবাদ হলেও আউশ মৌসুমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি অনাবাদি থাকে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জমিকে চাষের আওতায় আনা গেলে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি, খাদ্যশস্য উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং কৃষকের বার্ষিক আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৫টি প্রযুক্তি গ্রামে রাইস গার্ডেন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ব্রি উদ্ভাবিত উন্নত ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি জনপ্রিয়করণে এলএসটিডি প্রকল্প নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত বন্যায় বোরো মৌসুমে ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় এ বছর আউশ চাষাবাদকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং যান্ত্রিক পদ্ধতিতে আউশের রোপণ জনপ্রিয়করণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় দেশের কৃষি ব্যবস্থায় আউশ চাষের পরিধি আরও বাড়াতে হবে।

ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ জাহিদ হাসান বলেন, “এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে হুগলীপাড়াকে প্রযুক্তি গ্রামের আওতায় আনার পর আউশ মৌসুমে ধান চাষে কৃষকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও রাইস গার্ডেনের মাধ্যমে তারা নতুন জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা পাচ্ছেন।”

হুগলীপাড়া গ্রামের কৃষক মো. মিজানুর রহমান তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এলএসটিডি প্রকল্পের সহযোগিতায় আমরা এবার প্রথমবারের মতো আউশ ধানের চাষ করছি। আগে বছরের এই সময়ে জমি অনাবাদি ফেলে রাখতাম। এবার ফলন ভালো হলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে আউশ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

একই গ্রামের আরেক কৃষক মো. রশিদুল ইসলাম বলেন, আগে আউশ চাষ সম্পর্কে আমাদের তেমন ভালো ধারণা ছিল না। ব্রি’র এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেয়ে এবারই প্রথম আউশে স্বল্প জীবনকালের ধান চাষ করেছি।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রামের এই সময়োপযোগী উদ্যোগে এলাকার অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনে আউশ চাষ সম্প্রসারিত করতে পারলে দিনাজপুরে ধান উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের আয়, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জেএইচআর