‘গবেষণা, উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি’ স্লোগানকে ধারণ করে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) ‘গাকৃবির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পরিচিতিকরণ’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাত এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে টেকসই কৃষি উন্নয়নকে আরও বেগবান করাই ছিল এই সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মামুনুর রহমান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাত, আধুনিক উৎপাদন কৌশল, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্ভাবনের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। পাশাপাশি এসব প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে ব্যবহার, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে এর সম্ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরবর্তীতে মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গাকৃবির অবদান তুলে ধরেন প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেবল গবেষণাগার বা প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ থাকলে তার পূর্ণ মূল্যায়ন হয় না। প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন সেই উদ্ভাবন কৃষকের মাঠে পৌঁছে উৎপাদন বাড়ায়, ব্যয় কমায় এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এ জন্যই গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাকে সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে এবং কৃষকের আস্থা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গবেষণার শক্তিতে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
সেমিনারের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী কৃষক, খামারি ও উদ্যোক্তারা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি এবং গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন।
সেমিনারে গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, শ্রীপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং গাজীপুরের বদনিভাঙ্গা ও পাজুলিয়া গ্রামের ৪০ জন কৃষক-কৃষাণী, খামারি ও উদ্যোক্তা অংশ নেন।
জেএইচআর