কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই চিকিৎসা বর্জ্যের স্তূপ, জনস্বাস্থ্যে উদ্বেগ

মো. জজ মিয়া, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশগেট-সংলগ্ন মূল দেয়ালের পাশে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ধারে খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে চিকিৎসা বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথের পাশেই এমন দৃশ্য জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্তূপ করে রাখা বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে ফলমূল ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য, রক্তমাখা গজ, ব্যান্ডেজ, ব্যবহৃত ড্রেসিং সামগ্রী, চিকিৎসা উপকরণের মোড়ক, ওষুধের প্যাকেট, প্লাস্টিক এবং বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য। এসব বর্জ্য খোলা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে হাসপাতালে আসা রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু, স্বজন ও সাধারণ মানুষের চলাচল হয়।

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার জানান, এগুলো সরকারি হাসপাতালের বর্জ্য নয়। তাঁর দাবি, হাসপাতালের সামনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। হাসপাতালের দায়িত্বরত অপর এক চিকিৎসকও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা বর্জ্যের মধ্যে রক্তমাখা গজ, ব্যান্ডেজ, ড্রেসিং সামগ্রীসহ সংক্রমণ বহন করতে পারে- এমন উপকরণ থাকতে পারে। এসব বর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশিয়ে খোলা স্থানে ফেলে রাখলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পথচারী, রোগী ও তাদের স্বজন সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এছাড়া মাছি, মশা, কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর মাধ্যমে জীবাণু বিস্তারের আশঙ্কাও থাকে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব বর্জ্যের দূষিত উপাদান আশপাশের পরিবেশ ও জলাশয়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালের প্রধান ফটকের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলে রাখা শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি গুরুতর হুমকি। এমন দৃশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দেয়।

বাংলাদেশের মেডিকেল ওয়েস্ট (ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্রসেসিং) বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা বর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশিয়ে বা উন্মুক্ত স্থানে ফেলা যায় না। সংক্রমণজনিত, ধারালো, প্লাস্টিক ও সাধারণ বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্তকরণ, পরিবহন ও চূড়ান্ত অপসারণ করতে হয়। খোলা স্থানে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলে রাখা বিধিমালার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় এভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

এএন