চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মরহুম মাহমুদুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে মানবাধিকার সংস্থা ‘মানবতা ফাউন্ডেশন’ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট খন্দকার অহিদুল আলম। তিনি জানান, গত ১৯ জুন সকালে জীবননগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে মাহমুদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আতাউর রহমান বাদী হয়ে জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাহমুদের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতি, শ্যালক, শাশুড়ি ও স্ত্রীর দুলাভাইসহ ৪ জনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আসামি করা হয়।
অ্যাডভোকেট অহিদুল আলম আরও জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) বিশেষ নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পারিবারিক কলহ চলছিল। স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় মাহমুদকে মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম নির্যাতন করতেন। এমনকি ঘটনার আগের রাতে এবং দিন সকালেও তাঁদের মধ্যে মারাত্মক বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। এছাড়া নিহতের পরিবার আরেকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
এটি আসলেই আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধ বা গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মাহমুদুর রহমানের পিতা আতাউর রহমান, মা হাসিনারা নার্গিস, বোন মেহেনাজ আক্তার মিতা এবং মানবতা ফাউন্ডেশনের সভাপতি রওফুন নাহার রিনা প্রমুখ। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জেএইচআর