ঝড়ে বিকল ট্রান্সফরমার, ৪ দিন ধরে অন্ধকারে আদিতমারী-কালীগঞ্জের ৫০ হাজার মানুষ

মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে পুরোপুরি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের ১০ এমভিএ (MVA) ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রধান পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

এর ফলে কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর মূল ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এরপর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাগুলোতে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত লাখ লাখ টাকার খাদ্যসামগ্রী ও কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

অন্যদিকে মোমবাতি বা বিকল্প আলোয় পড়াশোনা করতে গিয়ে তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরাও চরম ব্যাঘাতের শিকার হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিকল ট্রান্সফরমার মেরামত বা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন বড় ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ায় প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে চলে গেছেন। তবে সমস্যা সমাধানে ঢাকা থেকে ইতোমধ্যে একটি নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে এবং সাব-স্টেশনে সেটি প্রতিস্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা জানি। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেএইচআর