দুর্গাপুরে বদলে গেছে ভূমি অফিসের চিত্র, হয়রানি কমে বেড়েছে সেবা

রাকিবুল হাসান, দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

একসময় ভূমি অফিস মানেই ছিল ভোগান্তি, দালালের দৌরাত্ম্য ও দীর্ঘসূত্রতা। সেই চিত্র বদলে দিতে কাজ করছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু। দায়িত্ব গ্রহণের পর কয়েক মাসের মধ্যেই উপজেলার ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার গতি বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদানের পর থেকেই উপজেলা ভূমি অফিসের পাশাপাশি লক্ষণখলসী, সিংগাহাট ও উজানখলসী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

তার নির্দেশনায় প্রতিটি ভূমি অফিসে সেবার ফি ও প্রক্রিয়ার তালিকা টানানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ বাক্স। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো পরিদর্শন করে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা হয়রানির অভিযোগ আছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করেন।

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত তদারকির ফলে ভূমি অফিসগুলোতে দালালের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমেছে এবং ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সেবাগ্রহীতা আজিজুল ইসলাম বলেন, আগে নামজারির জন্য চার-পাঁচবার অফিসে আসতে হতো। এখন একবারেই কাজ হয়ে যায়। ম্যাডাম নিজে এসে আমাদের সমস্যার কথা শোনেন। অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার ঘটনাও এখন আর নেই।

লক্ষণখলসী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রহিদ ইসলাম, আব্দুল হালিম, শফিকুল ইসলাম ও জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনি অত্যন্ত সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছেন। তার কারণে অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সময়মতো আসছেন এবং সেবার পরিবেশ অনেক উন্নত হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, লায়লা নূর তানজু একজন দায়িত্বশীল, সৎ ও স্বচ্ছ কর্মকর্তা। তিনি কোনো ধরনের অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন না। তার কঠোর অবস্থানের ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জবাবদিহিতা বেড়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা নূর তানজু বলেন, ভূমি সেবা মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর একটি। আমি চাই, প্রতিটি নাগরিক যেন হয়রানিমুক্তভাবে মাথা উঁচু করে সেবা নিতে পারেন। অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য দ্রুত, স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিত করা। সেবার মান উন্নয়ন এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দুর্গাপুর এখন জেলার অন্য উপজেলার জন্য একটি অনুসরণযোগ্য উদাহরণ। তাদের বিশ্বাস, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার আন্তরিকতা ও কার্যকর তদারকিই একটি প্রতিষ্ঠানের সেবার মান আমূল পরিবর্তন করতে পারে।

এম জি