ধর্ষণ মামলায় মাগুরার সাবেক এসপির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) ও বর্তমানে ওএসডিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সম্প্রতি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। গতকাল সোমবার সেই প্রতিবেদন গ্রহণের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ভুক্তভোগী নারীর সাথে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের পরিচয় হয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে ওই নারীকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার আশ্বাস দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরার সরকারি বাংলোতে ভুক্তভোগীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা দেন জহিরুল। পরবর্তীতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিসের বিশ্রামকক্ষ এবং ঢাকার বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার পর পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হয়েও তিনি এই যোগাযোগ বজায় রাখেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বিয়ের জন্য চাপ দিলে জহিরুল ইসলাম তা অস্বীকৃতি জানান এবং আইনি পদক্ষেপ নিলে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ওই নারী।

পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালত প্রাঙ্গণে পুনরায় বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জহিরুল আবার অস্বীকৃতি ও হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে গত ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

আদালতের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক গত ১৪ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন, যেখানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এই বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জেএইচআর