বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন তিনি স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। কর্মজীবনে দেশ-বিদেশে তিনি আরও বহু সম্মাননা ও পুরস্কার অর্জন করেন। একজন চিত্রশিল্পীর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠক ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা হিসেবেও তিনি সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুনের সন্তান।
নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি প্রথমে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। পরে শিল্পকলার প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে কলকাতা সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে সেখান থেকে চারুকলায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে শিক্ষাজীবন শেষ করেন।
দেশে ফিরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আহ্বানে আর্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে শিক্ষকতার দায়িত্ব ছেড়ে তৎকালীন বাংলাদেশ টেলিভিশনে যোগ দেন। সেখানে অনুষ্ঠান নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘মনির মুক্তা’ ও ‘নতুন কুঁড়ি’সহ বিভিন্ন সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশের দর্শকদের কাছে বিশেষ পরিচিতি ও ভালোবাসা অর্জন করেন।
এএন