বরেণ্য চিত্রশিল্পী, পাপেটম্যান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এই গুণী শিল্পীর লাশবাহী গাড়িটি রামপুরার বিটিভি ভবন প্রাঙ্গণ থেকে শহীদ মিনারে পৌঁছালে সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। এর আগে বিটিভি প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদ মিনারে প্রয়াত শিল্পীর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, বিশিষ্ট নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, প্রখ্যাত শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলা, কাজী তামান্না এবং গোলাম রাব্বানী।
ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট, কর্মজীবী নারী, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের পক্ষ থেকে তাঁর কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া নাট্য ও গণমাধ্যম সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রাচ্যনাট, বটতলা, দূরন্ত স্টেশন এবং বঙ্গরঙ্গ নাট্যদল এই মহান শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে।
এর আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই গতকাল সোমবার (২৯ জুন) তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, ঐতিহ্যবাহী পাপেট শিল্পচর্চা ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
জেএইচআর