রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে তবে দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল, জিন শাহিন, রজার উইকার, কেটি ব্রিট এবং রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট- উভয় দলের আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটি সিনেটে উত্থাপন করেন। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের দীর্ঘদিনের উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে এর নাম রাখা হয়েছে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম রাশিয়া অ্যাকাউন্টেবিলিটি বিল’।
প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেলের প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের। এ তালিকায় রাখা হয়েছে চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজানকে। সিনেটর ব্লুমেনথালের ভাষ্য, এটি শুধু শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নয়; বরং রাশিয়ার জ্বালানি ও আর্থিক খাত, প্রতিরক্ষা শিল্প, দেশটির ধনী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পথ তৈরি করবে।
বিলে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে ১৫ শতাংশের কম গ্যাস আমদানি করে এবং ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমিয়ে আনছে, তারা এই বিধানের আওতার বাইরে থাকবে। ফলে ইউরোপের অধিকাংশ মিত্র দেশ এ সুবিধা পেতে পারে।
আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য শুল্কের হার এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সিনেটর ব্লুমেনথাল বলেছেন, শুল্ক এমন মাত্রায় নির্ধারণ করা হতে পারে যাতে চীন, ভারতসহ বড় ক্রেতা দেশগুলো রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা থেকে নিরুৎসাহিত হয়। একই সঙ্গে বিলে প্রয়োজন হলে শুল্ক মওকুফের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে শুল্ক কমানো হলে সে বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হবে।
মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান জেমস রিশ রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাংকার বহরের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়া এসব ট্যাংকার ব্যবহার করে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে।
সিনেটররা জানিয়েছেন, আগের খসড়াগুলোর তুলনায় বর্তমান বিলের পরিধি সীমিত করা হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ ৬৩টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকলেও এখন তা কমিয়ে রাশিয়ার পাঁচটি প্রধান জ্বালানি ক্রেতা দেশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিলটি উত্থাপনের সময় সিনেটে প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহামের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। সিনেটর রজার উইকার একে গ্রাহামের ‘সবচেয়ে বড় অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে সিনেটর টেড ক্রুজ জানান, মৃত্যুর আগে গ্রাহাম ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিল নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
আইনপ্রণেতাদের আশা, আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ বিলটি সিনেটে পাস হতে পারে। তবে এর আগে এটি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে।
বর্তমানে ভারত কম দামে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। ভারতের দাবি, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই আমদানি প্রয়োজন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন তিনি। এতে ভারতসহ কয়েকটি দেশ নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
এএন