অবিরাম ব্যস্ততার মাঝে অনেকে নিজেকেই ভুলে যাচ্ছেন। ৯টা-৫টার চাকরি, সময়ের পেছনে দৌড়, সাফল্যের চাপে হাঁসফাঁস করা জীবনে খানিকটা বিরতি চায় মানুষ। সেই চাওয়াই জন্ম দিচ্ছে নতুন ধারা স্লো লিভিং। এই জীবনধারা কেবল ধীরে চলা নয়, বরং মানসিক শান্তি ও নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর এক সচেতন প্রয়াস। নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে গ্রহণ করছে এই শান্তিপূর্ণ জীবনচর্চা।
স্লো লিভিংয়ের ধারণাটি এসেছে স্লো মুভমেন্ট থেকে। স্লো লিভিংয়ের অর্থ হলো জীবনের গতি কমিয়ে দিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা। ফাস্ট ফুড, ফাস্ট ট্রাভেল বা মাল্টিটাস্কিং আমাদের জীবনকে অনেক বেশি ক্লান্ত করে তোলে। আর সেখানে স্লো লিভিং শেখায় যা করবে প্রয়োজনে কম করো, কিন্তু মন দিয়ে করো। স্লো লিভিংয়ের ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। প্রতিটি মানুষকে তার নিজের মতো করে পছন্দের জীবন গড়ে তোলে রীতিতে। কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, পছন্দের কাজ করা ইত্যাদি স্লো লিভিংয়ে অনেক গুরুত্ব পায়।
স্লো লিভিং জনপ্রিয় হচ্ছে কারণ অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং ডিজিটাল ওভারলোডের কারণে অনেকের মানসিক ক্লান্তি বাড়ছে। প্রচুর মানুষ মানসিক শান্তি এবং নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুঁজছে। করোনা মহামারির সময় ঘরোয়া জীবন মানুষকে ধীরে চলার সৌন্দর্য শিখিয়েছে।
স্লো লিভিং বা ধীর জীবনযাপন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অমূল্য উপকারিতা নিয়ে আসে। আমাদের আধুনিক ব্যস্ত জীবনে বাড়তে থাকা চাপ, রাগ ও অস্থিরতা কমাতে স্লো লিভিং কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ধীরগতিতে জীবনযাপন করলে সময় নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া ও বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার ফলে মন ও শরীর দুটোই শান্ত থাকে। একসঙ্গে বহু কাজ না করে একটি কাজে মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব হয়, যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে এবং নিজের ইচ্ছা ও চাহিদার সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলে।
এছাড়া, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধিতেও স্লো লিভিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ এটি নতুন চিন্তা ও কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেয়। মাইন্ডফুলনেস বা সচেতনতা চর্চার মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্তে আনন্দ অনুভব করতে শেখায় এবং মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত মাইন্ডফুলনেস চর্চা স্মৃতি, আত্মসচেতনতা, সহমর্মিতা ও চাপ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া, স্লো লিভিং সামাজিক সংযোগ ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহায়ক, যা একাকিত্ব কমিয়ে মানুষের মানসিক সুস্থতাকে সমৃদ্ধ করে।
স্লো লিভিং চর্চার উপায় সকাল বেলায় কিছুটা সময় নীরবতায় কাটানো। প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খাবার সময় ফোন হাতে নেওয়া যাবে না। প্রতিটি খাবারের স্বাদ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। প্রতিদিন স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাবলেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার থেকে স্বেচ্ছায় বিরত নিতে হবে। শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। যার ফলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমিয়ে ফেলতে হবে।
শখের কাজ যেমন আঁকা, গান শোনা, বাগান পরিচর্যা করা-এসব কাজে বেশি করে যোগ দিতে হবে।
এমবি/জেএইচআর