৭৪তম মিস ইউনিভার্স আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তানজিয়া জামান মিথিলা ভোটের শীর্ষে উঠে দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছেন।
একদিনে তিন লাখের বেশি ভোট পেয়ে তিনি এখনো পর্যন্ত পিপলস চয়েজ ক্যাটাগরিতে এগিয়ে। তার এই সাফল্যের খবরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মিস ইউনিভার্স বিজয়ী হলে আসলে কী কী পাওয়া যায়?
মিথিলার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের পরিচালক মুস্তফা ইসলাম ডিউক লিখেছেন, বাংলাদেশের জন্য এটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তিন লাখ ভোট এটা অভূতপূর্ব।
তিনি জানান, দিনের লক্ষ্য ছিল পাঁচ লাখ ভোট সংগ্রহ করা, এবং সেই পথে আছেন তারা। তার ভাষায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ, একতাই আমাদের শক্তি।
এই আন্তর্জাতিক মঞ্চ শুধু খ্যাতি এনে দেয় না বরং বিজয়ীর সামনে খুলে দেয় এমন কিছু সুযোগ, যা এক বছরের মধ্যেই একজন প্রতিযোগীর জীবনকে বদলে দিতে পারে মূলত ভিতর থেকে বাইরে।
মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন যার মূল কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট পরিচালনা করে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেখা সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাগুলোর একটি হওয়ায় চূড়ান্ত পর্ব থেকে শুরু করে বিজয়ীর পুরো এক বছরের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নজর কাড়ে।
বিজয়ীর বার্ষিক বেতন আড়াই লাখ মার্কিন ডলার: মুকুট জেতার পরপরই বিজয়ী হাতে পান ২৫০,০০০ ডলারের একটি চেক বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি। এটি তার এক বছরের আনুষ্ঠানিক বেতন।
নিউইয়র্কে এক বছরের বিলাসবহুল জীবন: বিজয়ীকে দেওয়া হয় নিউইয়র্ক শহরের একটি প্রিমিয়াম অ্যাপার্টমেন্ট, যেখানে তার থাকা–খাওয়ার সব ব্যবস্থা বহন করে সংস্থাটিই। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহু বিজয়ী পরে স্থায়ীভাবেও সেখানে থাকার সুযোগ পান।
ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুবিধা: মিস ইউনিভার্সকে এক বছরের জন্য দেওয়া হয় ব্যক্তিগত জেট প্লেন ব্যবহারের অনুমতি।
তিনি পৃথিবীর যে কোনো দেশে যেতে পারেন শুধু আগে থেকে সংগঠনকে জানাতে হয়।
ভ্রমণের পুরো আয়োজন, বিমান ভাড়া, হোটেল, খাবার, যাতায়াত, ফটোশুট প্রেস মিটিং সবই বহন করে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ।
পোশাক, প্রসাধনী, খাবার সবকিছুই স্পনসর্ড: সৌন্দর্যচর্চা, ফ্যাশন, স্বাস্থ্যসেবা, স্কিনকেয়ার এক বছরের জন্য এসব কিছুতে বিজয়ীর নিজের কোনো ব্যয় থাকে না। বিশ্বের নামী ব্র্যান্ডগুলো তাকে তাদের অফিশিয়াল অ্যাম্বাসাডর হিসেবে ব্যবহার করে, ফলে বিভিন্ন বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পণ্য তিনি বিনামূল্যে পান।
দাতব্য কাজ ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে শক্তিশালী ভূমিকা: মিস ইউনিভার্সকে তার শাসনামলে বিভিন্ন দেশে গিয়ে দাতব্য উদ্যোগে অংশ নিতে হয়। শিশু অধিকার, নারী অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন বা শিক্ষা এই ধরনের বিষয়েই আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকেন তিনি।
ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সুযোগ: কোনো কনসার্ট, ফ্যাশন শো, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান বা চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে যেতে চাইলে সব আয়োজন করে দেয় মিস ইউনিভার্স সংগঠন। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে রেড কার্পেট সবই তাদের দায়িত্ব।
কারণ, একজন তরুণীর জীবন এক বছরে যে পরিমাণ বদলে যেতে পারে মিস ইউনিভার্স সেই পথচলাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মুকুটজয়ীর পরিচিতি, ব্র্যান্ড ভ্যালু ও আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ তাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করে।
এবারের আসরে বাংলাদেশের মিথিলার এগিয়ে থাকা তাই নতুন আশা জাগিয়েছে দেশের সৌন্দর্য শিল্পে। ভোটে তার উত্থান দেখে অনেকেই বলছেন এই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ হয়তো এবার নতুন ইতিহাস দেখবে।
ইএইচ