তরুণ বয়সে মানুষের শরীর সাধারণত বেশি কর্মক্ষম, শক্তিশালী ও সুস্থ থাকে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে সেই সক্ষমতা কমতে থাকে-এটি পরিচিত বিষয় হলেও ঠিক কোন বয়স থেকে এই পরিবর্তন শুরু হয়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মতভেদ ছিল।
কেউ মনে করতেন চল্লিশের পর শরীর দুর্বল হতে শুরু করে, আবার কারও মতে পঞ্চাশের কাছাকাছি গিয়ে এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়। কিন্তু সুইডেনের গবেষকদের দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে-৩৫ বছর বয়সের পর থেকেই শরীরের ফিটনেস, পেশিশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে পরিচালিত এই গবেষণায় কয়েকশ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের শারীরিক অবস্থা, ফিটনেস, শক্তি এবং পেশির গঠন ও সক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়-কৈশোর থেকে শুরু করে ৬৩ বছর বয়স পর্যন্ত।
গবেষকদের মতে, আগের অনেক গবেষণায় আলাদা আলাদা তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণ করা হলেও একই ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। এই গবেষণার বিশেষত্ব হলো, একই ব্যক্তিদের প্রায় ৪৭ বছর ধরে একই পদ্ধতিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
ফলাফলে দেখা যায়, ৩৫ বছর বয়সের পর থেকেই শরীরের সক্ষমতা কমতে শুরু করে। এমনকি কেউ যদি তরুণ বয়সে নিয়মিত ব্যায়াম করেও থাকেন, তবুও এই ধীর অবনতি থেমে থাকে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিবর্তনের গতি আরও বাড়তে থাকে।
তবে গবেষণায় আশাব্যঞ্জক দিকও পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও সক্রিয় জীবনধারা এই অবনতির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ বয়স যতই হোক, শরীরচর্চা শুরু করলে শারীরিক সক্ষমতা অনেকটা সময় ধরে ধরে রাখা সম্ভব।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, এই পর্যবেক্ষণ এখনো চলমান থাকবে এবং অংশগ্রহণকারীদের আরও কয়েক বছর অনুসরণ করা হবে। এতে বয়সের সঙ্গে শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন।
গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে।
সূত্র: জিও নিউজ
এম জি