গ্রীষ্ম এলেই বাজারে বাড়তে থাকে আমের সরগরম উপস্থিতি। দেশি নানা জাতের আমে ভরে ওঠে ফলের দোকান। তবে সুস্বাদু এই ফল কিনতে গিয়ে অনেকেই পড়ছেন দুশ্চিন্তায়। কারণ দ্রুত বাজারজাত করতে কিছু ব্যবসায়ী এখনও রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকানোর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতন থাকলে সহজেই প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমভাবে পাকানো আমের পার্থক্য বোঝা সম্ভব।
পুষ্টিবিদদের মতে, দ্রুত আম পাকাতে অনেক ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম কারবাইড ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক থেকে নির্গত গ্যাস ফল দ্রুত হলুদ করে তোলে। কিন্তু এতে থাকা ক্ষতিকর উপাদান শরীরে গেলে নানা স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হজমের সমস্যা, ত্বকের জটিলতা এমনকি শরীরের ভেতরে বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়। যেভাবে বুঝবেন আমে রাসায়নিক ব্যবহার হয়েছে:
রঙে অস্বাভাবিকতা
স্বাভাবিকভাবে পাকা আমে সাধারণত সবুজ ও হলুদের মিশ্রণ দেখা যায়। পুরো আম সমান রঙের হয় না। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম অনেক সময় অতিরিক্ত উজ্জ্বল ও একরঙা হলুদ দেখায়।
ঘ্রাণে মিলবে ইঙ্গিত
প্রাকৃতিক আমে বোঁটার কাছে মিষ্টি ও পরিচিত ফলের সুবাস থাকে। কৃত্রিমভাবে পাকানো আমে সেই স্বাভাবিক ঘ্রাণ অনেক সময় পাওয়া যায় না। কখনো আবার হালকা ঝাঁজালো গন্ধও থাকতে পারে।
ভেতরের অবস্থা পরীক্ষা করুন
বাইরে হলুদ হলেও রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমের ভেতর অনেক সময় শক্ত বা ফ্যাকাশে থাকে। অন্যদিকে স্বাভাবিকভাবে পাকা আম কাটলে শাঁস নরম ও গাঢ় হলুদ দেখা যায়।
পানির পরীক্ষাও কাজে দেয়
একটি পাত্রে পানি নিয়ে আম ডুবিয়ে দেখুন। সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম পানিতে ডুবে যায়। কিছু কৃত্রিমভাবে পাকানো আম ভেসে থাকতে পারে।
অতিরিক্ত চকচকে হলে সতর্ক
অস্বাভাবিক মসৃণ ও নিখুঁত দেখতে আম সবসময় ভালো নাও হতে পারে। স্বাভাবিক আমের গায়ে ছোটখাটো দাগ বা অসমান ভাব থাকতেই পারে।
নিরাপদে আম খাওয়ার কিছু পরামর্শ
আম খাওয়ার আগে কয়েক ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা ভালো। এতে ফলের গায়ে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া বাজার থেকে আধাপাকা আম কিনে ঘরে স্বাভাবিকভাবে পাকানো বেশি নিরাপদ। খবরের কাগজে মুড়িয়ে বা চালের ভেতর রেখে সহজেই আম পাকানো যায়।
বিশ্বস্ত দোকান বা পরিচিত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু রং বা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে নয়, সচেতনভাবে ফল বেছে নিলেই স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এএন