কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন কুমিল্লার একটি আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার সরকারি কৌঁসুলি মো. কাইমুল হক রিংকু।
আদালতের আদেশে যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা হলেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান এবং সাবেক সৈনিক শাহীন আলম। জাহিদুজ্জামানের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায় এবং শাহীন আলম কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তারা দুজনই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে আবেদন করে ওই দুই সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং রেড নোটিশ জারির অনুমতি চান। একই আবেদনে তনু হত্যা সংক্রান্ত কোনো তদন্ত তথ্য সেনাবাহিনীর কাছে থাকলে তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সরবরাহের অনুরোধও করা হয়।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার নির্ধারিত তারিখে আদালত কী নির্দেশনা দিয়েছেন সে বিষয়ে তিনি তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত হননি। আদেশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, তদন্তে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় নতুন আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলেছে। সর্বশেষ ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বে তিনজনের শুক্রাণুর উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেলেও নতুন করে একজনের রক্তের নমুনার মিল পাওয়া গেছে।
এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে সোমবার সকালে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হাফিজুর রহমান ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনু হত্যার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় পড়াতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছাকাছি একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত শুরুতে পুলিশের হাতে থাকলেও পরে তা গোয়েন্দা পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সদর দপ্তরে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন তদন্তের পর ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।
এম জি