নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে কিছুটা কাটছাঁটের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সোমবার সচিবালয়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আরও অন্তত দুটি বৈঠকের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে। এরপর সুপারিশ অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারের অনুমোদনের পর নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
সূত্র জানায়, আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সচিব কমিটি ধাপে ধাপে পে-স্কেল কার্যকরের সুপারিশ করতে পারে। একই সঙ্গে বাস্তবায়নের সময় যেন প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতা কম হয়, সে বিষয়েও সুপারিশে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হয়েছে বলে ধরা হবে। অর্থাৎ ওই তারিখ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর আর্থিক সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে বাস্তবে বর্ধিত বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন হতে পারে।
সচিব কমিটির এক সদস্য জানান, এখনো কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হয়নি। এ জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন এক বা দুই ধাপে করা সম্ভব হবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এদিকে নতুন অর্থবছর শুরু হলেও এখনো নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।
তবে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো, ভাতা নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বর্তমানে তারা সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়ার সুযোগও সীমিত।
এএন