পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পাকিস্তানের সহায়তা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ১১:৩২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রশিক্ষণে পাকিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, মাদক দমন এবং আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।

বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা আরও উন্নত করতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ উদ্যোগ ও আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

তিনি জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের তৎকালীন সিনিয়র সচিব, বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির ‘সেফ সিটি’ মডেল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শহরগুলোকে আরও নিরাপদ করতে পাকিস্তানের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মত দেন।

আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই সফরের ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সীমান্ত নিরাপত্তা ও সমাজকে সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। দীর্ঘ ১৪ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সমস্যার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা পাকিস্তানের কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (সিএনআইসি) পেতে জটিলতার মুখে পড়ছেন। এর ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকটে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের জোরালো সমর্থন কামনা করেন।

বৈঠকের শেষে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাকিস্তর সফরের আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সুবিধাজনক সময়ে সফরটি সম্পন্ন করবেন বলে জানান। বৈঠকে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এএন