সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ সংরক্ষণের আহ্বান

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১২:৫১ এএম

সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাঙর ও শাপলাপাতা মাছের (Rays) গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্ব হাঙর সচেতনতা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ ১৪ জুলাই মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব প্রজাতির সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষক, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের ব্লু ইকোনমি শাখার সহকারী পরিচালক শাকিলা জাহান এবং ব্র্যাক ফিশারিজের জেনারেল ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসাইন। উপস্থাপনায় জানানো হয়, অতিরিক্ত আহরণ, অনাকাঙ্ক্ষিত আহরণ (বাইক্যাচ), আবাসস্থল ধ্বংস এবং সামুদ্রিক দূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী হাঙর ও শাপলাপাতা মাছের স্টক উদ্বেগজনকভাবে কমছে।

আইইউসিএন-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৩৬ শতাংশ হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় থাকা ৮৮ প্রজাতির মধ্যে ৫৪টি প্রজাতিই বর্তমানে হুমকির মুখে, যার মধ্যে ১০টি প্রজাতি অতি সংকটাপন্ন এবং ২২টি বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত।

কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশে হাঙর লক্ষ্য করে বাণিজ্যিক মৎস্য আহরণ না হলেও ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের জালে বাইক্যাচ হিসেবে এগুলো বিপুল পরিমাণে ধরা পড়ে। বিষয়টি মোকাবিলায় মৎস্য অধিদপ্তর ২০২৩ সালে 'ন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অব শার্কস অ্যান্ড রেজ (NPOA-Sharks) ২০২৩–২০২৭' প্রণয়ন করেছে। তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, দেশে বড় আকারের হাঙরের অবতরণ কমছে এবং বর্তমানে ধরা পড়া হাঙরের ৯৮ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক, যা অতিরিক্ত আহরণেরই লক্ষণ।

সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হাঙরের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি কার্যকর সংরক্ষণের লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সম্প্রসারণ, তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও উৎপাদনশীল সামুদ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কর্মশালাটি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে ব্র্যাক।

জেএইচআর